বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:০২

দুদকের ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে একজনের বিরুদ্ধে মামলা

ফাইল ছবি

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালকসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. রেজওয়ানুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুদক।

আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, দণ্ডবিধির ৪১৯ ও ৪২০ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

দুদক জানায়, অভিযুক্ত মো. রেজওয়ানুল হক দুদকের চেয়ারম্যান, মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ স্থাপন করতেন। এরপর বিভিন্ন ব্যক্তিকে দুদকে অভিযোগ রয়েছে-এমন ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আদায় করতেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি ১ কোটি ৩৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৮৩ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। এছাড়া, মিসেস ইয়াসমিন আক্তার নামীয় এক ব্যক্তির ভোটার আইডি ব্যবহার করে খোলা ডাচ-বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবসহ মোট দুটি ব্যাংক হিসাবে ১ কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬১ টাকা জমা এবং ১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৮ হাজার ৭০৬ টাকা উত্তোলন করা হয়।

দুদক জানায়, অভিযুক্তের নামে জমি, প্লট ও নির্মাণাধীন ভবনসহ প্রায় ৬০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ব্যাংক জমাসহ প্রায় ২৮ লাখ ৯৫ হাজার ৮৮৩ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ তার কোনো বৈধ পেশা বা আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি।

এছাড়া পুলিশের সিডিএমএস পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে রেজওয়ানুল হকের বিরুদ্ধে এর আগে রাজধানীর রমনা, শাহবাগসহ দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত নয়টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে একাধিকবার গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল হাসনাতের এজাহারের ভিত্তিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্তে অন্য কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুদক।