বাসস
  ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৪৬

নির্বাচনী ইশতেহারে গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের রূপরেখা তুলে ধরেছে গণসংহতি আন্দোলন 

রোববার রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার প্রকাশ করেন দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। ছবি : বাসস

ঢাকা, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬(বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ)।

রোববার রাজধানীর হাতিরপুলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ইশতেহার প্রকাশ করেন দলের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল। ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য দেওয়ান আব্দুর রশিদ নীলু, তাসলিমা আখতার, কেন্দ্রীয় সদস্য বাচ্চু ভুইয়া, অঞ্জন দাস, আমজাদ হোসেন ও সুমনা লুৎফুন্নাহার।

ইশতেহার ঘোষণাকালে আবুল হাসান রুবেল বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার—সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যহীনতার ভাষায় আবারও সামনে এসেছে। গণসংহতি আন্দোলন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের রূপরেখাই ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরেছে। তিনি বলেন, এই ইশতেহার কেবল কিছু প্রতিশ্রুতির সমাহার নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিশা এবং বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তোলার সম্ভাবনা বাস্তবায়নের পথনকশা।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দলের নেতারা বলেন, নারীর ক্ষমতায়নের প্রশ্নে যারা দেশকে পিছিয়ে নেওয়ার চিন্তায় ইশতেহার দিচ্ছেন, তারা আসলে দেশকেই পিছিয়ে নিতে চান। এ সময় ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার কাওরান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজি বন্ধে তার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।

গণসংহতি আন্দোলনের ইশতেহারে বলা হয়েছে, একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তাদের প্রধান লক্ষ্য, যেখানে রাজনৈতিক অধিকারের পাশাপাশি সম্পদের বণ্টনেও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত হবে এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে দুর্নীতি দূর করে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে।

ইশতেহারে শ্রমিক, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জাতি-ধর্ম-শ্রেণি-লিঙ্গভিত্তিক সব ধরনের বৈষম্যের অবসান, অর্থনীতির রূপান্তরের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক খাতকে আনুষ্ঠানিক খাতে নিয়ে আসা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকের স্বার্থ রক্ষা করে কৃষি খাতের বিকাশের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

শিক্ষা ও শিশু উন্নয়নের ক্ষেত্রে সকল শিশুর জন্য নিরাপদ ও সৃজনশীল বিকাশ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যৎমুখী জাতীয় কর্মপরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ‘চিকিৎসার অভাবে কেউ মারা যাবে না’—এই নীতির ভিত্তিতে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও উদ্যোগের কথা উল্লেখ করা হয়।

নারীর রাজনৈতিক অধিকার ও ক্ষমতায়ন, সকল নারীর সমমর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইশতেহারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

পাশাপাশি পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষায় সব অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিবেশের প্রশ্নকে প্রাধান্য দেওয়া, নদী-খাল ও বনভূমি দখল ও দূষণমুক্ত করা, ন্যায্য হিস্যা আদায় এবং প্রকৃতিবান্ধব নগরায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নীতি-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর পরিচয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের বিকাশ, প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, তরুণ জনগোষ্ঠীর সুযোগ ও বিকাশ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষার বিষয়গুলোও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।