বাসস
  ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৫৪

গুজবকে চ্যালেঞ্জ মনে করছে না বিএনপি : ডা. পাভেল

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিএনপি মিডিয়া সেলের প্রধান ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেছেন, বিএনপি কোন প্রকার গুজবকে চ্যালেঞ্জ মনে করছে না। সাধারণ মানুষ বুঝে গেছে কোনটা গুজব কোনটা সত্য। তারা এটাও বুঝে গেছে গুজব কারা ছড়ায়। 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে কুমিল্লায় ‘আমাদের পরিকল্পনা তোমাদের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, তারেক রহমান দেশে এসেই বলেছিলেন, দেশ নিয়ে তাঁর আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে। এ পরিকল্পনার মূল অংশই ছিল তরুণদের নিয়ে।  ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ভাতা, দেশের ক্রীড়া ব্যবস্থা নিয়ে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা।

তিনি বলেন, একাত্তর থেকে চব্বিশ তরুণরাই এদেশে যুদ্ধ করেছে। স্বাধীনতার পর পর একটা রাজনৈতিক দল স্বাধীনতাটাকে পুরোপুরি নিজেদের করে ফেললো। বাংলাদেশ কোন প্রেক্ষাপটে স্বাধীন হয়েছে সে বিষয়টি জানতে চাই। স্বাধীনতা যুদ্ধ একটা পর্বে আসেনি। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনের পর ৭১ এ স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। 

মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে অনেক রকমের প্রশ্ন উঠে। এটা নিয়ে কি আমরা সত্য কথা বলতে পারবো না? এটা তো মানতে হবে যে, ৭০ এর নির্বাচনে আমরা বাঙ্গালীরা নিরঙ্কুশ জয়লাভ করেছি। কিন্তু স্বাধীনতা অনিবার্য হওয়ার পরও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের কাছ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা আসেনি। এটা রাজনৈতিক একটা কলঙ্ক বলতে পারি আমরা।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার দায়িত্ব নিলেন একজন মেজর যিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। তিনি রেডিওতে ঘোষণা করলেন ‘আই ডু হ্যাভ ডিক্লেয়ার দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট অব ব্যাংলাদেশ’।  এর মধ্যে দিয়ে তিনি জানালেন আমি জিয়া আমার পরিচয় দিলাম, মানে আমি বিদ্রোহ করলাম। 

তিনি বলেন, এটাকে নিছক একটি ঘোষণা পাঠ বললে হবে? এরপর আমরা দেখি স্বাধীনতা যুদ্ধেও দীর্ঘ নয় মাস তিনি কিন্তু তাঁর পরিবারকে ভারতে নিয়ে যাননি। তিনি কিন্তু বাংলাদেশের ভেতরে যুদ্ধ করেছেন। একটা সময় তিনি উপলব্ধি করেছেন গেরিলা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা যায় না। যুদ্ধ করতে গেলে সামনাসামনি যুদ্ধ করা লাগে। তিনি তাঁর সমস্ত শক্তি ব্যয় করে জেড ফোর্স গঠন করেন এবং সে যুদ্ধে আমরা বিজয় লাভ করেছি।

তরুণ প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির সময় একটা আকাঙ্খা ছিলো, তোমাদের মতো তরুণরাই সে যুদ্ধে অংশ নিয়েছো। তোমরা সৌভাগ্যবান সে যুদ্ধ তোমরা চব্বিশে এসে করেছো।

মুক্ত আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির রিসার্চ ও মনিটরিং সেলের সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মিডিয়া মনিটরিং কমিটির সদস্য সৈয়দা আদিবা হোসেন প্রমুখ।

এছাড়াও বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজের ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। এসময় তারা দেশ গঠনের নানা বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।