বাসস
  ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৪০

টেলিগ্রামে বিদেশি বিনিয়োগের নামে প্রতারণা : চক্রের আরও দুই সদস্য গ্রেফতার

ঢাকা, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : টেলিগ্রামে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিনিয়োগ গ্রুপ পরিচালনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারক চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডি গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত পৃথক অভিযান চালিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থেকে রনজিৎ বসাক রওনক (২৫) এবং দিনাজপুর সদর থানার সুইহারী এলাকা থেকে পলাশ চন্দ্র বসাককে (৪০) গ্রেফতার করে।

সিআইডি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এ মামলায় পূর্বে গ্রেফতার হওয়া চক্রের মূলহোতা ফারদিন আহমেদ ওরফে প্রতীক (২৫) এবং তার সহযোগী মো. সাগর আহমেদ (২৪) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানকালে রনজিৎ ও পলাশের নাম প্রকাশ করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে টেলিগ্রাম অ্যাপে ‘বিদেশি বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম’সহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় নামে ভুয়া গ্রুপ খুলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে আসছিল। গ্রুপে যুক্ত হওয়ার পর সেখানে আগে থেকেই যুক্ত থাকা কিছু সদস্য বিনিয়োগ করে কীভাবে দ্রুত লাভবান হয়েছে, এমন সাজানো ও ভুয়া পোস্ট দিত। প্রকৃতপক্ষে এসব সদস্যই ছিল চক্রের সক্রিয় সহযোগী।

এই কৌশলে প্রলুব্ধ হয়ে ভিকটিমরা গ্রুপের নির্দেশনা অনুযায়ী বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠাত। অধিকাংশ অ্যাকাউন্টই ছিল তৃতীয় ব্যক্তির নামে খোলা, যাদের অনেকেই প্রতারণার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। পরে এসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রতারক চক্র অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করত। এতে বহু মানুষ সর্বস্ব হারিয়েছে বলে জানায় সিআইডি।

তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ নগদে রূপান্তরের জন্য চক্রটি অভিনব কৌশল অবলম্বন করত। মূলহোতা ফারদিন আহমেদ বিভিন্ন গাড়ির শোরুম থেকে ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে গাড়ি ক্রয় করে স্বল্প সময়ের মধ্যে কম দামে বিক্রি করত এবং কাগজে লোকসান দেখিয়ে নগদ অর্থ উত্তোলন করত। এভাবেই অবৈধ অর্থ ‘ক্যাশ আউট’ করা হতো।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রনজিৎ বসাক রওনক অবৈধ টেলিগ্রাম গ্রুপের একজন সদস্য হিসেবে গ্রুপ পরিচালকের নির্দেশনায় আর্থিক লেনদেন কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। অপরদিকে পলাশ চন্দ্র বসাক টেলিগ্রাম গ্রুপের মূলহোতা ‘মিশন’-এর ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করত। সে কমিশনভিত্তিকভাবে কাজ করত, যার ন্যূনতম দৈনিক পারিশ্রমিক ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা। বিনিয়োগ ও লেনদেনের পরিমাণ বেশি হলে অতিরিক্ত কমিশন হিসেবে দৈনিক ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করত।

পলাশ চন্দ্র বসাক নিজের নামে নিবন্ধিত একাধিক সিমকার্ড এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করত এবং মূলহোতার অবৈধ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে ছিল। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানায় সিআইডি।