শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা ১৭ আসনের বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম বলেছেন, ‘শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার মতো পরীক্ষিত নেতৃত্ব হিসেবে তারেক রহমানই আগামী দিনে বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে বিএনপির একটি গৌরবোজ্জ্বল ও উজ্জ্বল অতীত রয়েছে। সেই উজ্জ্বল অতীতের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। যিনি ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ ও শৃঙ্খলাহীন অবস্থার মধ্যেও দেশকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন। আগামী দিনে তারেক রহমান দেশকে আরো এগিয়ে নিয়ে সক্ষম হবেন।’
আজ রোববার রাজধানীর শাহজাদপুরে সুবাস্তু নজর ভ্যালীর উল্টো দিকে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী প্রচারণা অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম এসব কথা বলেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছিলেন উল্লেখ করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ এই নেতা বলেন, ‘আমাদের নেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন দেশে কোনো শৃঙ্খলা ছিল না। তিনি দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে দিয়েছেন, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে এনেছেন।’
আবদুস সালাম বলেন, ‘এখনো দেশে গণতন্ত্র পুরোপুরি ফিরে আসেনি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আসন্ন নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বানচালের চেষ্টা করছে। নানা কৌশলে ভোট চুরির ষড়যন্ত্র করছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই দেশের মানুষ আজ প্রমাণ দিয়েছে— তারেক রহমান যখন দেশে আসেন, তখন কোটি কোটি মানুষ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। এটি জনগণের আস্থার প্রতীক। আজ তিনি জনগণের সামনে আস্থার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়েছেন।’
বর্তমান অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা ও পররাষ্ট্রনীতিকে ঢেলে সাজানো একমাত্র তারেক রহমানের পক্ষেই সম্ভব উল্লেখ করে সালাম বলেন, ‘দেশ গড়তে তারেক রহমান একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনার কথা বলেছেন, তিনি জনগণের সামনে বলেছেন— ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।’ অন্য কোনো রাজনৈতিক দল এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রের সামনে এমন কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে পারেনি।’
আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আর বেশি দিন বাকি নেই। বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে সবসময় সহনশীলতা ও গণতন্ত্রের চর্চা করছে। অথচ, অন্য একটি দল ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এমনকি নিম্ন আয়ের মানুষদের ভোট নেওয়ার উদ্দেশ্যে বিকাশ নম্বর সংগ্রহের মতো অনৈতিক কাজ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
তিনি বলেন, ‘ভোট কোনো কেনাবেচার পণ্য নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। অতীতেও এ ধরনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ব্যর্থ হবে।’
দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ ভোটের অধিকার ফিরে পেয়েছে উল্লেখ করে আব্দুস সালাম বলেন, ‘জনগণ কোনোভাবেই এই অধিকার নষ্ট হতে দেবে না। ভোট একটি আমানত; যোগ্য প্রার্থীকে বিবেচনা করেই ভোট দিতে হবে।’
ধর্মের নামে ঘুস দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে সালাম বলেন, ‘যারা একদিকে আল্লাহর আইনের কথা বলে, অন্যদিকে ঘুস দিয়ে ভোট নিতে চায়— তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
আবদুস সালাম বলেন, ‘ঘুস বা বিকাশে টাকা দিয়ে মানুষের মাথা কেনা যায় না। এই নির্বাচনে মানুষ দলবেঁধে ভোট দিতে আসবে। দুই-চার-পাঁচটি ভোট দিয়ে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করা যাবে না। ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে ঠেকানো যাবে না।’
বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনা থেকে শুরু করে যুবক, ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক ও মা-বোনদের জন্য কী করা হবে, সবকিছু সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। অন্য দলগুলো এখনো তাদের পরিকল্পনা পরিষ্কার করতে পারেনি। তারা শুধু বিএনপিকে ঠেকানোর রাজনীতিতে ব্যস্ত।’
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সংগঠনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলেই নির্বাচনে সাফল্য আসবে।’
এ সময় বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিমুদ্দিন আলমসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।