বাসস
  ১৩ জুন ২০২৬, ১৯:৫১

জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ঢাকা, ১৩ জুন, ২০২৬ (বাসস): বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত ‘জলবায়ু-সহনশীল এবং পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

আজ শনিবার রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে বিআইপি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিআইপি সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্মপ্রধান (ডেল্টা অনুবিভাগ) ড. এস এম যোবায়দুল কবির।

স্বাগত বক্তব্যে বিআইপির সহ-সভাপতি ড. ফারহানা আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়তে বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার বিকল্প নেই।

সেমিনারে উপস্থাপিত গবেষণাপত্রে পরিকল্পনাবিদ নাঈমা ইসলাম মিম শিল্পাঞ্চলের বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে লাইকেনভিত্তিক প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, লাইকেন বায়ু থেকে ভারী ধাতু শোষণ করতে সক্ষম এবং বায়ুমান পর্যবেক্ষণের কার্যকর জৈব নির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে।

অন্য এক প্রবন্ধে গবেষক মো. শিবলী সাদিক জলবায়ু প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘ইমপ্লিমেন্টেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পরিকল্পনার শুরু থেকেই বাস্তবায়ন সক্ষমতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

আলোচনায় বক্তারা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, সমন্বিত পরিকল্পনা, অংশীজনদের সম্পৃক্ততা এবং গবেষণাভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে পরিকল্পনাবিদদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

সমাপনী বক্তব্যে ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণই পরিকল্পিত উন্নয়নের মূলভিত্তি। টেকসই, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গঠনে বিআইপি সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।