শিরোনাম

ঢাকা, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ফ্যাসিবাদী দোসরদের সম্মিলিত নির্যাতনেই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু হয়েছিল।
প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। এটি ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের শারীরিক ও মানসিক নির্মম নিপীড়নমূলক দুঃশাসনের ফল।’
রিজভী বলেন, ‘মরহুম আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতি করতেন না। তিনি ছিলেন একজন ক্রীড়া সংগঠক।
কিন্তু তার মৃত্যুর কারণ ছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নমূলক দুঃশাসন।’
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলটির উদ্যোগে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া'র কনিষ্ঠ পুত্র, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মরহুম আরাফাত রহমান কোকো'র ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যিনি গোটা জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছেন- সেই নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকো পৃথিবী থেকে চলে গেছেন। তার এই মৃত্যু ছিল অকাল মৃত্যু, স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। ফ্যাসিবাদ এবং তাদের দোসরদের সম্মিলিত নিপীড়ন-নির্যাতনের ফলেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন।
তিনি স্মরণ করেন, ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন দমনের জন্য শেখ হাসিনা সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গুলশান কার্যালয়ে চারদিক থেকে বালির ট্রাক ও কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আমার চোখে গোলমরিচের গুঁড়া নিক্ষেপ করা হয় এবং পেয়ারা গাছের ধোঁয়ার মধ্যে শ্বাসরোধের ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়।
রিজভী বলেন, এই নিপীড়নের পৈশাচিক রূপ সুদূর মালয়েশিয়া থেকে মরহুম আরাফাত রহমান কোকো প্রত্যক্ষ করছিলেন। তিনি তখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মায়ের ওপর চালানো নির্যাতনের বীভৎস দৃশ্য দেখে তিনি নিজেকে সামাল দিতে পারেননি এবং দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত হয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি আরও বলেন, কোকোর লাশ যখন দেশে আসে বিএনপি নেতাকর্মীরা তখন পুলিশের হুলিয়ার মধ্যে ছিলেন।
টেলিভিশনে তারা দেখেছেন, মৃত সন্তানের লাশ কোলে নিয়ে বসে আছেন বেগম খালেদা জিয়া।
শোক জানাতে যাওয়া বিএনপি নেতাকর্মী তো বটেই, দেশের বুদ্ধিজীবী, অধ্যাপক, চিকিৎসক ও বিশিষ্ট নাগরিকদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হয়।
রিজভী উদাহরণ দিয়ে বলেন, খ্যাতিমান রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমেদ গুলশান কার্যালয়ে শোক জানিয়ে বাসায় ফেরার আগেই তার বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দেওয়া হয়েছিল। এটি ছিল ফ্যাসিবাদের লোমহর্ষক অত্যাচারের নিদর্শন।
তিনি বলেন, অনেক রক্তস্রোত ও ত্যাগের বিনিময়ে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ এই দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে।
রিজভী বলেন, যারা জনগণের নেতা ও জনগণের ওপর নিপীড়ন চালায়, তাদের শেষ পরিণতি পালিয়ে যাওয়া।
৫ই আগস্ট তার প্রমাণ। এটি প্রকৃতির নিয়ম এবং আল্লাহর বিধান কোনো অত্যাচারীকে আল্লাহ সহ্য করেন না।
রিজভী প্রশ্ন রেখে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে- ‘আমাদের জন্য কাজ করুন, আপনার বিকাশ নম্বর দিন, আমরা সেখানে কিছু পাঠাব।’ এটি আমার কথা নয় আমি পত্রিকায় পড়েছি। প্রশ্ন হলো, এটি কি নির্বাচনী আচরণবিধির মধ্যে পড়ে? টাকা দিয়ে ভোট কেনা কি আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়?'
জনগণকে সতর্ক করে বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, বিকাশে কাকে কাকে টাকা পাঠানো হচ্ছে—এসব অজানা থাকছে না। তাই অহেতুক বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সবাইকে সংযত হতে হবে, যাতে বড় ধরনের আইনি ভুল না হয়।
তিনি জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব নির্বাচনী আইন-কানুন ও বিধি মেনেই কাজ করছেন।
তিনি বগুড়ায় নিজ গ্রামের বাড়ি ও শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করতে চাইলেও নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে তা স্থগিত করেন। পরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর দিন হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন।
রিজভী বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা দেখিনি যে তারেক রহমান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অশালীন বা অকথ্য ভাষায় কথা বলেছেন। বরং তিনি শালীন ও সংযত ভাষায় বক্তব্য রাখছেন।
বিএনপি'র এই নেতা আরো বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে বলা আছে- ধর্ম বা আর্থিক প্রলোভন ব্যবহার করা যাবে না। কিন্তু ধর্মকে ভোটের কাজে ব্যবহার করা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, বিএনপি চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করুক। জনগণ যাদের ভোট দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে, এটাই বিএনপির অঙ্গীকার।
এ সময় রুহুল কবির রিজভী কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ।
দোয়া মাহফিলে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।