শিরোনাম

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হামিদুল আলম এবং তার স্ত্রী মোছা. শাহাজাদী আলম লিপিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন এ তথ্য জানান।
আজ সোমবার বগুড়া জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। মামলাগুলো দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম।
প্রথম মামলায় সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হামিদুল আলম ছাড়াও তার তিন বোন মোছা. আজিজা সুলতানা, মোছা. আরেফা সালমা ও মোছা. শিরিন শবনমকে আসামি করা হয়েছে। দ্বিতীয় মামলায় আসামি করা হয়েছে তার স্ত্রী মোছা. শাহাজাদী আলম লিপি এবং সহায়তাকারী হিসেবে মো. হামিদুল আলমকে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, মো. হামিদুল আলম তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে অসৎ উদ্দেশ্যে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ৩ হাজার ৯০৫ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন ঘোষণা দেন। পাশাপাশি চাকরিকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি ৩৫ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯৫ টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখেন।
অনুসন্ধানে আরও উঠে আসে, মানিলন্ডারিং সম্পৃক্ত অপরাধ ‘দুর্নীতি ও ঘুস’- এর মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দ্বারা তার মা ও বোনদের নামে জমি ক্রয় দেখিয়ে পরে সেগুলো হেবাসূত্রে নিজের নামে রূপান্তর করেন। এভাবে প্রায় ৮ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন করা হয়। এ ঘটনায় তার মা ও বোনেরা সহযোগিতা করেন বলে দুদক অভিযোগ করেছে। তবে অভিযুক্তের মা মৃত্যুবরণ করায় তাকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অপরদিকে, দ্বিতীয় মামলায় দুদক উল্লেখ করে, আসামি মোছা. শাহাজাদী আলম লিপি তার সম্পদ বিবরণীতে ১৯ কোটি ৫৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৭৮ টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপন করেন এবং স্বামীর অবৈধ সহায়তায় ২৬ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৭ টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেন। এছাড়া অবৈধ আয়ের অর্থ দিয়ে শাশুড়ির নামে সম্পত্তি ক্রয় করে পরে হেবার মাধ্যমে নিজের নামে নেওয়ার মাধ্যমে প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ ৪২ হাজার টাকা মূল্যের সম্পদের উৎস আড়াল করা হয়।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, মোছা. শাহাজাদী আলম লিপির মোট নীট সম্পদের বিপরীতে গ্রহণযোগ্য আয় তুলনামূলকভাবে অপ্রতুল হওয়ায় তার নামে ২৪ কোটি ৫০ লাখ ১২ হাজার ৩৫৪ টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয় বহির্ভূত সম্পদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। এতে সহায়তার অভিযোগে তার স্বামী মো. হামিদুল আলমকেও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযুক্ত করা হয়েছে।
দুদক জানায়, তদন্তকালে নতুন কোনো সম্পদ বা অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা হবে।