বাসস
  ১১ মার্চ ২০২৬, ১৮:৫৩

প্রস্রাব পরীক্ষাতেই কিডনি রোগ নির্ণয় সম্ভব, প্রয়োজন সচেতনতা ও দ্রুত শনাক্তকরণ

ছবি : বাসস

ঢাকা, ১১ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হলেও প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয়ের খরচ খুবই কম-এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। 

তারা বলেন, সময়মতো কিডনি রোগ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব এবং চিকিৎসা ব্যয়ও নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

বিশ্ব কিডনি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে বুধবার রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিটোর) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। এতে উপস্থিত ছিলেন ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল, নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল কেনান, ড্যাবের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ডা. একেএম খালেকুজ্জামান দিপু, বিশিষ্ট কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেজবাহ উদ্দিন নোমান, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. আব্দুল মুকীত ও সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মো. রেজাউল আলমসহ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. শাহনেওয়াজ দেওয়ান।

বক্তারা বলেন, একটি পরিবারে কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং অনেক সময় তা বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ব্যয়ভার শুধু রোগী বা তার পরিবারের ওপর নয়, বরং সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্র ও সমাজের ওপরও বড় চাপ তৈরি করে। তাই কিডনি রোগের প্রতিরোধ ও প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, কিডনি রোগ শনাক্ত করা খুবই সহজ একটি প্রক্রিয়া। শুধুমাত্র একটি প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমেই অনেক ক্ষেত্রে কিডনি রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা সম্ভব। যদি ইউনিয়ন সাব-সেন্টার, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ডায়াবেটিক কেয়ার সেন্টারগুলোতে এই পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি সহজলভ্য করা যায়, তবে কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাও অনেক সহজ হয়ে উঠবে।

এবারের বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘সুস্থ কিডনি সকলের তরে, মানুষের যত্নে বাঁচাও ধরণীরে।’

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, নীরবঘাতক কিডনি রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। কিডনি সুস্থ রাখতে ভেজাল খাবার পরিহার করতে হবে, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালে প্রকাশিত আটটি গবেষণার ওপর করা একটি সিস্টেমিক রিভিউ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত। ১৭ কোটির বেশি মানুষের দেশে এ হিসাবে কিডনি রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৮২ লাখ। এ সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর দেশে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার রোগীর কিডনি বিকল হয়ে যায়। নতুন আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে বা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করে। বর্তমানে দেশে মৃত্যুর কারণ হিসেবে কিডনি রোগ অষ্টম স্থানে রয়েছে এবং ২০৪০ সালের মধ্যে এটি পঞ্চম স্থানে উঠে আসতে পারে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।

উল্লেখ্য, বিশ্ব কিডনি দিবস উপলক্ষে গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ), সাবেক পিজি হাসপাতালের বি ব্লকের সম্মুখ প্রাঙ্গণ বটতলায় কিডনি রোগ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে একটি ভ্রাম্যমাণ ছাদখোলা গাড়ির উদ্বোধন করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনি রোগ শনাক্ত করা না গেলে রোগীর জন্য তা মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।