শিরোনাম

ঢাকা, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখা থেকে সাতটি ভুয়া ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ঋণের নামে ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে পৃথক সাতটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে এক নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন। দুদকের চট্টগ্রাম-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যাংকের সাবেক পরিচালক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা একটি সিন্ডিকেট গঠন করে গ্রামের কৃষক, দিনমজুর, দর্জি, সেলসম্যানসহ সাধারণ মানুষকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে তাদের নামে চলতি হিসাব খুলে ঋণের নামে এই বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)- এর বিভিন্ন শাখা থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠান ও যোগসাজশের মাধ্যমে মোট ৪৬ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, চকবাজার শাখা থেকে হোছন ট্রেডিংয়ের নামে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, কর্নফুলী এম্পোরিয়ামের নামে ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং জহির ইন্টারন্যাশনালের নামে ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। পোর্ট শাখা থেকে ক্যাটস আই কর্পোরেশনের নামে আত্মসাৎ করা হয় ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। একইভাবে পাহাড়তলী শাখা থেকে শাহ ট্রেডিংয়ের নামে ৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং হারুন এন্ড সান্সের নামে ৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়া বহদ্দারহাট শাখা থেকে মল্লিক এন্ড ব্রাদার্সের নামে আত্মসাৎ করা হয় আরও ৬ কোটি টাকা।
প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর ভাই ইউসিবি'র সাবেক পরিচালক ও ইসি কমিটির চেয়ারম্যান আনিসুজ্জামান চৌধুরী (রনি), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক পরিচালক বশির আহমেদ ও সাবেক পরিচালক হাজী ইউনুছ আহমদ এবং বজল আহমেদ বাবুল।
এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন চকবাজার শাখার ভাইস প্রিন্সিপাল ও প্রাক্তন শাখা প্রধান মো. মাব্দুল হামিদ চৌধুরী, আলোক ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার বিশ্বাস এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর নামমাত্র স্বত্বাধিকারী হিসেবে উল্লিখিত মোহাম্মদ হোছন, মোহাম্মদ জহির উদ্দিন ও মিজানুর রহমান প্রমুখ।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।