
ঢাকা, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণা চক্রের দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।
গ্রেফতারকৃতরা হলো- তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) ও হৃদয় হাসান (২১)। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।
নেদারল্যান্ডসের উইথলোকালস নামীয় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ক্লোন করে একই নাম ও ডিজাইনে একটি ভুয়া ওয়েবপেজ তৈরি করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করতো তারা।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে হৃদয় হাসান মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং তৌহিদ ভূঁইয়া তদন্তে প্রাপ্ত অভিযুক্ত।
মামলার এজাহারে জানা যায়, প্রতারক চক্র নিজেদের তৈরি করা ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক চক্রের অপরাপর সদস্যদের মাধ্যমে ভিকটিমদের কাছে পাঠিয়েছিল।
নিজেদেরকে উক্ত বিদেশি কোম্পানির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে দ্রুত লভ্যাংশ প্রদানের প্রতিশ্রুতিতে ভিকটিমদের নানা প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন অংকের অর্থ বিনিয়োগে প্রলুব্ধ করে। ভিকটিম প্রলুব্ধ হয়ে উক্ত ভুয়া প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ করে।
এভাবে অন্তত একজন ভিকটিমের কাছ থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। ভিকটিম প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে পল্টন থানার একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলাটি তদন্তকালে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ উক্ত প্রতারণা চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত করে। তদন্তে জানা যায়, এজাহারভুক্ত অভিযুক্ত হৃদয় হাসান দীর্ঘদিন ধরে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপ ব্যবহার করে বিদেশি কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে প্রতারণা করে আসছিল।
গত ৭ জানুয়ারি সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের একটি অভিযানিক দল তৌহিদ ভূঁইয়াকে জামালপুর সদর থানার স্টেশন রোড এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিনে প্রতারণা চক্রের মূল হোতা হৃদয় হাসানকে একই এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
হৃদয় হাসানের কাছ থেকে জব্দকৃত স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করে জানা যায়, সে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা প্রায় ৩০টি ব্যাংক হিসাব নিয়ন্ত্রণ করত।
পাশাপাশি, তার ব্যবহৃত দুটি বাইনান্স অ্যাকাউন্ট ভিন্ন ব্যক্তির নামে খোলা হলেও উক্ত অ্যাকাউন্টগুলোর সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয় হাসানের বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট সংযুক্ত ছিল।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে আরও পাওয়া যায় যে, হৃদয়ের স্মার্টফোনে ১৫টি কিউআর কোড রয়েছে, যার মাধ্যমে সে একাধিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে লগইন করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
হৃদয় হাসান নিজেকে একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার দাবি করে ওয়েবপেজ ডেভেলপমেন্টের কাজ করার কথা বললেও, বাস্তবে বিদেশি কোম্পানির ওয়েবসাইট ক্লোন করে বিনিয়োগ প্রতারণায় লিপ্ত ছিল।
সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগের টিম উক্ত প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত উভয় আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
বর্তমানে বাইনান্স অ্যাকাউন্টের লেনদেন, সংশ্লিষ্ট ৩০টি ব্যাংক হিসাবের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক তথ্য, ভিকটিমের সংখ্যা এবং চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্তে গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে আবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডি ঢাকা মেট্রো পূর্ব বিভাগ।