শিরোনাম

আইনগত সহায়তা প্রদান অধ্যাদেশের দ্বিতীয় সংশোধনী প্রকাশ
ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও এর এখতিয়ার সংক্রান্ত বিধানাবলি এবং মধ্যস্থতাকারীর সনদ, লাইসেন্স, নবায়ন ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা-সংক্রান্ত নতুন বিধান যুক্ত করে জারি করা হয়েছে আইনগত সহায়তা প্রদান (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬ ।
গতকাল মঙ্গলবার প্রণীত নতুন এ সংশোধনীতে অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য আইনগত সহায়তা আরো কার্যকর করতে আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা ও এর দায়িত্ব ও কার্যাবলি নির্দিষ্ট করে নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন আইনি কাঠামো অনুযায়ী, অধিদপ্তর অসচ্ছল, সহায়-সম্বলহীন ও আর্থ-সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া জনগণকে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রদান করবে এবং আইনগত সহায়তার যোগ্যতা নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে স্বল্প খরচে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মধ্যস্থতা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) সেবা সম্প্রসারণ ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বিধান অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিক, শিশু বা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিদের তাৎক্ষণিক আইনি সহায়তা ও আইনি পরামর্শ প্রদান করা হবে। মহানগর থেকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত আইনগত পরামর্শ সেবা পৌঁছে দিতে অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। পাশাপাশি, বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক ও অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আইনগত সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।
নতুন দায়িত্বের আওতায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সনদপ্রাপ্ত পেশাদার মধ্যস্থতাকারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া, আইনগত সহায়তা ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি কার্যক্রমের মানোন্নয়নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা, গবেষণা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের পাঠ্যসূচিতে আইনগত সহায়তা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্তকরণ এবং গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর কথা বলা হয়েছে।
পেশাদার মধ্যস্থতাকারী সৃষ্টি ও তালিকাভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অধিদপ্তর বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সনদ প্রদানের উদ্দেশ্যে আবেদন যাচাই-বাছাই, মূল্যায়ন ও পরীক্ষা গ্রহণের জন্য অধিদপ্তরের অধীনে একটি ‘মধ্যস্থতাকারী সনদ কমিটি’ গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। এছাড়া আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। কমিটি জেলা, উপজেলা ও আদালতভিত্তিক বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মধ্যস্থতাকারীর সনদ ও তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করবে।
নতুন বিধান অনুযায়ী, সনদপ্রাপ্ত মধ্যস্থতাকারীদের লাইসেন্সের প্রাথমিক মেয়াদ হবে পাঁচ বছর, যা নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে নবায়নযোগ্য। কোনো মধ্যস্থতাকারীর বিরুদ্ধে শর্ত ভঙ্গ বা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণ হলে সতর্কীকরণ, লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে অধিদপ্তর।
এ ধরনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ মধ্যস্থতাকারীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের সচিব বা মনোনীত কর্মকর্তার কাছে আপিল করতে পারবেন।
এছাড়া, সনদপ্রাপ্ত মধ্যস্থতাকারীদের সম্পন্ন করা মধ্যস্থতা কার্যক্রম চীফ লিগ্যাল এইড অফিসারের মাধ্যমে যাচাইবাবদ স্বীকৃতি (এক্রেডিটেশন) পাবে। যাচাই শেষে প্রত্যয়িত প্রতিটি মধ্যস্থতা চুক্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনের বিশেষ বিধান কার্যকর হবে। অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে সকল সনদপ্রাপ্ত মধ্যস্থতাকারীর তালিকা সরকারি গেজেট ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে বলে এতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০০০ সালের আইনগত সহায়তা আইন সংশোধনের মাধ্যমে আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন প্রক্রিয়া আরো সহজ করা হয়েছে। এখন থেকে আবেদনকারীরা সুপ্রিম কোর্ট, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে সরাসরি অথবা অনলাইনে আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।