বাসস
  ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৩২
আপডেট : ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:৪০

শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য যে ভূমিকা দরকার, বিএনপি তা-ই করবে: নজরুল ইসলাম খান

আজ রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। ছবি: বাসস

ঢাকা, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ( বাসস): বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে ভূমিকা পালন করা দরকার, বিএনপি তা-ই করবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমাদের নেতা তারেক রহমান ১৭ বছর পর দেশে ফিরে এক বিশাল গণসংধনা অনুষ্ঠানে বারবার শান্তির কথা বলেছেন। কাজেই একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে যে ভূমিকা পালন করা দরকার বিএনপি তা-ই করবে। আমাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কাজ করবে।’

আজ রোববার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপির নির্বাচনী অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকের বিষয়ে কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা আজকে যে সভা করেছি, সেই সভায় পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দ্বিতীয়ত আরো গুরুত্বপূর্ণ যেটা ছিল তা হলো, আমরা কীভাবে আগামী দিনগুলোতে এই কমিটি কাজ করব, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখানে যাদের দেখছেন তারা প্রায় সবাই কোনো না কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে টিম লিডার হিসেবে কাজ করবেন। এই টিম লিডারদের নেতৃত্বে ওই বিষয়ে প্রাসঙ্গিক উপকমিটি গঠিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘উপকমিটিতে কারা থাকতে পারেন, সেটার একটা প্রস্তাবনা আমাদের কাছে আগামী দুই দিনের মধ্যে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। এরপর আমরা আলোচনা করে সেই উপকমিটিগুলো চূড়ান্ত করব।’ 

বৈঠকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘একজন প্রার্থী কীভাবে নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করবেন, কীভাবে ভোটারদের কাছে গিয়ে বিএনপির আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন, কীভাবে আইন মেনেই নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন এবং ভোটারদের সহজেই ভোটকেন্দ্রে কীভাবে আনবেন, এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘বিএনপি বরাবর যথাসম্ভব দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাবি জানিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন যে নির্বাচন হলেই বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। সেজন্য বিএনপি তাড়াতাড়ি নির্বাচন চায়। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসাবে অবশ্যই বিএনপির রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সেই কারণে আমরা নির্বাচন চাইনি।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আমরা স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন এবং দেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা চেয়েছি। আমরা যে এক দফা দাবির আন্দোলন করেছিলাম, সেটা ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদের নির্বাচন।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভুত্থানের মাধ্যমে আমরা ফ্যাসিস্ট সরকারকে বিদায় করতে পেরেছি। কিন্তু দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় নাই। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা শুধুই একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে, জনগণের ভোটের মাধ্যমে এবং জনগণের সমর্থনের দ্বারা পূর্ণ প্রতিষ্ঠা পেতে পারে। সেই কারণেই আমরা বারবার নির্বাচনের কথা বলেছি। বিএনপির ইতিহাস এটাই।’

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ বহু বছর ভোট দিতে পারেনি। পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে পারে নাই। আমরা আশা করছি, এবার জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করতে পারবে এবং তাদের পছন্দের একটা সরকার পাবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গত ১ জানুয়ারি রাতে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করে বিএনপি। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে চেয়ারম্যান এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে সদস্যসচিব করা হয়। 

কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মো. ইসমাইল জবিউল্লাহকে।

কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন-দলের স্থায়ী কমিটি, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদ, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। তাদের মধ্যে রয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিজন কান্তি সরকার, হাবিব উন নবী খান (সোহেল), জিয়াউদ্দিন হায়দার, মঞ্জুর হোসাইন আলমগীর, মাহদী আমিন, সালেহ শিবলী, এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, সাইমুম পারভেজ, রেহান আসাদ ও জুবায়ের বাবু।

কমিটিতে আরও রয়েছেন- মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর, আবদুল কাইয়ুম, গিয়াসউদ্দিন রিমন, হুমায়ুন কবির, এ বি এম আবদুস সাত্তার, মোহাম্মদ জকরিয়া, মোস্তাকুর রহমান, বেলায়েত হোসেন মৃধা, মেহেদুল ইসলাম, ফরহাদ হালিম ডোনার, অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান, কামরুল ইসলাম সজল, অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, প্রকৌশলী শোয়েব বাশারী বাবলু, কামরুজ্জামান কায়সার, ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, আবদুল মোনায়েম মুন্না, আফরোজা আব্বাস, মনির খান, আ ন ম খলিলুর রহমান ইব্রাহিম, ইয়াসিন আলী, আবুল কালাম আজাদ, কাজী মো. সেলিম রেজা, রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও আনোয়ার হোসেন।