শিরোনাম

ঢাকা, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস): ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম, লোগো ও পরিচয় ব্যবহার করে অনলাইনে কম সুদে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিল একটি আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র।
এই চক্রের এক সক্রিয় সদস্য মো. সোহাগ হোসেনকে (৩৫) গত ২৮ নভেম্বর ভোরে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)। সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, চক্রের সদস্যরা প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে নিজেদের বিশ্বব্যাংকের ঋণ কর্মসূচির লোন অফিসার পরিচয় দিয়ে ২ শতাংশ সুদে ১০ লাখ টাকা ঋণের লোভ দেখাত। পরে ভুক্তভোগীদের ভুয়া ব্যাংকিং ওয়েবসাইটে আবেদন করতে বাধ্য করা হয় এবং বিভিন্ন ‘চার্জ, ভ্যাট, ইন্সুরেন্স, প্রক্রিয়াকরণ ফি’ এর নামে একাধিকবার টাকা পাঠাতে চাপ দেওয়া হয়। এভাবে এক ভুক্তভোগী ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৪৮ টাকা হারিয়ে রাজধানীর শাহজাহানপুর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে চক্রের বাংলাদেশে অবস্থানরত মূল সদস্য সোহাগকে শনাক্ত করে।
পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে পাঁচটি মোবাইল ফোন, একাধিক বিকাশ ও নগদ এজেন্ট অ্যাকাউন্ট, নয়টি মোবাইল নম্বর এবং বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সোহাগ একটি আন্তর্জাতিক ‘বিনিয়োগ ও ঋণ প্রতারণা’ চক্রের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বিদেশে অবস্থানরত মূল হোতার নির্দেশে তিনি প্রতারণামূলক লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস অ্যাকাউন্ট, বিভিন্ন টেলিকম কোম্পানির সিমকার্ড এবং চক্রের আর্থিক লেনদেন সমন্বয় করতেন। প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ তিনি বিদেশে থাকা সদস্যদের কাছে পাঠাতেন।
এতে আরও বলা হয়, বিশ্বব্যাংক, আইএফএডি এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছে। একই পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক ব্যক্তি প্রতারণার শিকার হয়েছেন এবং বিভিন্ন ইউনিটে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় সোহাগ ও চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। গ্রেফতারকৃত সোহাগকে আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে, যাতে চক্রের বিদেশি সদস্য, ব্যবহৃত ব্যাংক ও এমএফএস হিসাব, জাল ওয়েবসাইট এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়।
কোনো সরকারি সংস্থা বা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান কখনোই ফেসবুক বা অপরিচিত নম্বর থেকে ঋণ দেয় না। ফি বা চার্জের নামে টাকা দাবি করা মানেই তা প্রতারণা।
সন্দেহজনক অনলাইন অফার দেখলে বা প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।