বাসস
  ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৯:৫২
আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ১৯:৫৫

অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিএনপির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন মির্জা ফখরুল

শনিবার রাজধানীতে ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫: অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ অধিবেশনে বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল।

ঢাকা, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ (বাসস) :  বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের কৃষক-শ্রমিকসহ সাধারণ নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত ও গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনীতিকে একটি বদ্ধ মডেল থেকে উন্মুক্ত মডেলে স্থানান্তর করেছিলেন। আধুনিক অর্থনৈতিক ভিত্তি গঠনে তার অবদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে রয়ে গেছে।

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলন ২০২৫: অর্থনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’-এর  এক অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। দৈনিক বণিক বার্তা এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

বিএনপিকে একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে বর্ণনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক উন্মুক্ততার নীতির ওপর ভিত্তি করে দলটি গড়ে তুলেছিলেন। জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে একদলীয় ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে রূপান্তরিত করেছিলেন।

সম্মেলনে দলের একটি সুস্পষ্ট অর্থনৈতিক রূপরেখা উপস্থাপনের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রশংসা করেন মির্জা ফখরুল। উপস্থাপনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এবং বিএনপির প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো তুলে ধরা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনিপি ক্ষমতায় থাকাকালে অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে গুরুত্ব দিয়েছে। যখনই বিএনপি ক্ষমতায় ছিল, কেউ আমাদের বিরুদ্ধে অর্থনীতি ধ্বংসের অভিযোগ করতে পারেনি। বরং আমরা অর্থনীতিকে সচল রেখেছি। এমনকি বাংলাদেশকে উদীয়মান টাইগার হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষের কল্যাণই বিএনপির অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কেন্দ্রবিন্দু।

তিনি বলেন, আমরা চাই কৃষকরা ভালোভাবে বাঁচুক, তাদের সমস্যার সমাধান হোক এবং শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পাক। জাতীয় কল্যাণের জন্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

আলোচনায় উত্থাপিত পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিশ্বাস অপরিহার্য। যদি আমরা আমাদের উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস না করি, তারা কীভাবে উন্নয়নে অবদান রাখবে? ব্যবসা তখনই বৃদ্ধি পায়, যখন তাদের প্রতি আস্থা রাখা হয়, সন্দেহ নয়।


মির্জা ফখরুল আর্থিক অপরাধে অভিযুক্ত মালিকদের শিল্প প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, যারা দেশ লুট করেছে তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। কিন্তু তাদের কারখানায় হাজারো মানুষ কাজ করে। যখন এ ধরনের শিল্প হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তখন বেকারত্ব তীব্রভাবে বেড়ে যায়। আমাদের সতর্কভাবে চিন্তা করতে হবে এবং কর্মসংস্থান রক্ষা করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। স্বাধীনতার সময় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৫০ লাখ এবং খাদ্য ঘাটতি ছিল ২৮ লাখ টন।

তিনি বলেন, আজ আমরা প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। এটি আমাদের কৃষক, কৃষি বিজ্ঞানী এবং এ খাতে কাজ করা সবার অর্জন।

তিনি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠন করতে হবে যাতে তা আমাদের জনগণের উন্নয়ন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। স্বাস্থ্য খাতেও বড় ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন। একটি সমৃদ্ধ দেশ গঠনের জন্য এসব ক্ষেত্র অপরিহার্য।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে আসছে। ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আমরা অনেক সংস্কার ধারণা উপস্থাপন করেছিলাম, যা আজ আলোচিত হচ্ছে। আবার ২০২৩ সালে আমাদের ৩১ দফা কাঠামোয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শাসন ব্যবস্থা সংস্কার তুলে ধরা হয়েছে। আজকের আলোচনার বেশিরভাগই আমরা বহু বছর আগে প্রস্তাব করেছিলাম।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উভয় রূপরেখা প্রয়োজন। শুধু অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যকর হবে না। রাজনৈতিক সংস্কারেও স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যেই সে পথে কাজ শুরু করেছি।

বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্ব্যক্ত করে ফখরুল বলেন, আমরা শুধু একটি নতুন বাংলাদেশ নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই—যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নত জীবনমান ভোগ করবে,  শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং গণতন্ত্র সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।