শিরোনাম
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো সংস্কার প্রস্তাবগুলো আগামী দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে সেন্টার ফর ইনক্লুসিভ পলিসি অ্যান্ড গভর্নেন্স (সিআইপিজি) আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এই আহ্বান জানান।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘যে সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো আগামী দুই মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর যেগুলোতে একমত হয়নি, সেগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে।’
প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রবাসী ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যগত ভুলগুলো সংশোধন করা না গেলেও সরকার ভোটার তালিকা ও পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা করতে পারে।’
তোফায়েল আহমেদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের উপকারভোগী গোষ্ঠীগুলো প্রতিবিপ্লবের বিষয়ে সচেতন নয়। যে সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে তা যদি অবহেলায় হারিয়ে ফেলি তাহলে স্বৈরাচার আবার ফিরে আসবে। তাই রাষ্ট্রীয় সংস্কার করতে হবে। শুধু ভোট আয়োজন করাই সংস্কার নয়।
তিনি বলেন, বৃহত্তর স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিশেষত জামায়াত-বিএনপির ঐক্য ধরে রাখতে হবে। ইসলামী ও মধ্যপন্থি দলগুলোর ঐক্য মজবুত করতে হবে। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে এই অনির্বাচিত সরকারকে। তাই সবাইকেই সতর্ক হয়ে কথা বলতে হবে, কাজ করতে হবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হওয়া উচিত ছিল। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি না থাকার কারণে মব ভায়োলেন্স হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচন একক সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ্ধতি ও জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য উপযোগী যেকোনো পিআর পদ্ধতিতে হতে পারে।
সিআইপিজি-এর চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন সাবেক সচিব ড. মো. শরিফুল আলম।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এ কে এম ওয়ারিসুল করিম।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে সাবেক সচিব মু. আবদুল কাইয়ূম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির (অব.), দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, এসএফ আহমেদ অ্যান্ড কোং এর সিনিয়র পার্টনার প্রখ্যাত চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মো. এনামুল হক চৌধুরী , অতিরিক্ত সচিব (অব:) ও জাতিসংঘ জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. ফজলে রাব্বি সাদিক আহমেদ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল অরাজনৈতিক, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যাতে আপামর সব শ্রেণি পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। তাই জুলাই যে আকাঙ্ক্ষায় সংগঠিত হয়েছিল তা এই সনদে উলে¬খ থাকতে হবে। সব জাতি, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী-চাকমা মারমাদের অধিকারও এই সনদের দ্বারা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির (অব.) বলেন, একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের জন্য সশস্ত্রবাহিনী ও প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফ্যাসিস্ট সরকারের তৈরি করা ভোটার তালিকা, আসন সীমানা ও প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করা সম্ভব নয়।
দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী বলেন, জুলাই সনদের যদি আইনি ভিত্তি না থাকে তাহলে এই সনদের কোন গুরুত্ব থাকবে না। জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছাই হলো সাংবিধানিক ভিত্তি। তাই জুলাই সনদের বিষয়গুলো এখন থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করতে হবে।