বাসস
  ৩০ আগস্ট ২০২৫, ১৭:৩৬

বাংলাদেশের উচিত চীনের সঙ্গে নদী প্রকল্পে এগিয়ে যাওয়া : মেজর (অব.) হাফিজ

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম । ফাইল ছবি

ঢাকা, ৩০ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম বলেছেন, ভারত সব সময় যৌথ নদী কমিশনকে উপেক্ষা করে চলেছে। কমিশনের বৈঠকটিগুলোতে তারা অনীহা দেখাতো। তাই আমাদের (বাংলাদেশ) উচিত চীনের সঙ্গে নদী প্রকল্পে এগিয়ে যাওয়া।

আজ সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে “বাংলাদেশের পানি সংকট এবং অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা ও করণীয়” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় আমন্ত্রিত অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভারতের অগণিত বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশের নদীর নাব্যতা কমে গেছে। শুধুমাত্র ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণে বাংলাদেশের ২০টি নদী মৃত হয়ে গেছে। রাজনৈতিক অদূরদর্শিতা বাংলাদেশের নদী ধ্বংস ও সীমান্তে জমি হারানোর প্রধান কারণ ভারতের এই অনীহা। বাংলাদেশের উচিত ১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের পানি কনভেনশন-এ স্বাক্ষর করা।

সমাজ চিন্তা ফোরামের আহ্বায়ক কামাল হোসেন বাদলের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোস্তফা আলী। এতে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, রাজনীতিবিদ সাইফুল হক, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, প্রকৌশলী বি. ডি. রহমত উল্লাহ, জামসেদ আনোয়ার তপন, খুরসিদ আলম স্বপন, এম. এ. ওয়াহাব, ইসরাত জাহান প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভা সঞ্চালনা করেন সমাজচিন্তা ফোরামের সদস্য সচিব রঞ্জন দাস শিবু। 

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশে অনেক নদীর উপর বিভিন্ন প্রকল্প নির্মাণে নদী তার রূপ হারিয়েছে। ভারতের বাঁধের কারণে সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশের নদ-নদী গুলো। বাংলাদেশ সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক গৃহীত অনেক প্রকল্পই নদী জলাশয় ধ্বংসের অন্যতম কারণ হয়েছে। নদী দখল ও দূষণের কারণে নদীমাতৃক দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমরা বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার কলমের এক খোঁচায় সুন্দরবন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে।

সাইফুল হক বলেন, বাংলাদেশের পানি সংকট ও অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ও মোকাবেলায় জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে হবে।