বাসস
  ১৪ জুন ২০২৬, ২৩:১১
আপডেট : ১৪ জুন ২০২৬, ২৩:৪০

অনগ্রসর এলাকায় শিক্ষার সুযোগ পৌঁছালে সুপ্ত প্রতিভা বিকশিত হবে : ডা. জুবাইদা রহমান

প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান রোববার রাজধানীর বি এ এফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার ঢাকা জেলা পর্যায়ের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা, ১৪ জুন, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ অনগ্রসর এলাকার জনসাধারণের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারলে সঠিক প্রতিভা অন্বেষণ সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘উপযুক্ত সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের এই সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ আরও সুগম হবে ইনশাল্লাহ।’

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর বি এ এফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে ঢাকা জেলা প্রশাসন আয়োজিত ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ প্রতিযোগিতার ঢাকা জেলা পর্যায়ের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি)-এর আওতাভুক্ত ‘এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম’-এর উদ্যোগে দেশব্যাপী এই মেলার আয়োজন করা হয়।

এবারের প্রতিপাদ্য ‘মেধা, বিজ্ঞান, উদ্যোগ ও উদ্ভাবনের দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জরাজীর্ণ স্কুলগুলোর বাস্তব চিত্র তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের মেধার প্রশংসা করেন।

তিনি পিরোজপুরের ইন্দুরকানী, কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী, ঝালকাঠির রাজাপুর, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ এবং দিনাজপুরের বিরল উপজেলার বিভিন্ন বন্যা ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো অবহেলার শিকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে অবহেলায় অনেক স্কুলের অবকাঠামো বেহাল এবং বহু স্কুলের বিধ্বস্ত অবস্থা তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীরা কোনো প্রতিকূলতাতেই শিক্ষা নেওয়া থামায়নি। শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ নানা কষ্টের মাঝেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মনোযোগী হয়েছেন। হয়ত তাদের মাঝ থেকেই কেউ একদিন বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করবে।’

নিজের একটি স্মৃতির কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আমার আজ মনে পড়ছে, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী ৫৪ নং সাউথ বিদ্যালয়ের জীর্ণ সাদা দেয়ালে লাল রঙে লেখা জীবনের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেটি আমাদের সবাইকে চিহ্নিত করবে, চিন্তিত করবে এবং হয়ত জীবন সম্পর্কে আরও ভাবতে শেখাবে। দেয়ালে লেখা আছে ‘মানুষ কখনো ব্যর্থ হয় না, হয় সে জিতবে না হলে সে শিখবে’। এই জীর্ণ দেয়ালের লিখন কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ রকম দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিভিন্ন জরাজীর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বাণী লেখা আছে।’

তিনি এই প্রতিযোগিতাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ আখ্যায়িত করে বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের দলগত কাজ, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের উন্নয়ন এবং পারিবারিক ও নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে একজন সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাকে আনন্দময় করে উপস্থাপন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারের মূল লক্ষ্য শুধু জিপিএ-৫ পাওয়া নয়, বরং সৃজনশীলতা ও মেধা বিকাশের মাধ্যমে প্রকৃত মানুষ গড়ে তোলা। আমরা আর পুরোনো দিনের মুখস্থ ও সরাসরি গ্রেড পাওয়ার সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থায় চলব না।’

তিনি বলেন, ‘আগামীতে সরকার সৃজনশীলতা, মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে ‘হিউম্যান ক্যাপিটাল’ (মানব পুঁজি) তৈরিতে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সেই লক্ষ্যে বাস্তবমুখী শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।’

এই জাতীয় উদ্ভাবনী মেলার ধারণা ও নেপথ্য অনুপ্রেরণা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ থেকে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের প্রায় ৩৬ হাজার ইনোভেটিভ আইডিয়া নিয়ে এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। গাছ থেকে আপেল পড়ার পেছনে নিউটনের যেমন ইনোভেটিভ ভাবনা কাজ করেছিল, আজকের এই স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান মেলার পেছনেও তেমন উদ্ভাবনী চিন্তা কাজ করেছে। আর এই পুরো আয়োজনের পেছনে যাঁর ক্রিয়েটিভিটি ও আইডিয়া কাজ করেছে, তিনি হচ্ছেন আজকের প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান।’

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার মনে আছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একদিন আমাকে ডেকে বলেছিলেন ‘মিলন, এই ছাত্র-ছাত্রীদের কাঁধে আর কত বড় বই ও জ্ঞানের বোঝা দেবে তুমি? কেন তাদের চোখে বড় বড় চশমা থাকবে? তাদেরকে তো এভাবে পড়ালেখা করালে হবে না।’ সেই দূরদর্শী ভাবনা থেকেই আজকের এই আনন্দময় ও বোঝামুক্ত শিক্ষার সৃষ্টি হয়েছে, যা আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিচ্ছেন।’

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন ডা. জুবাইদা রহমান।

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন উদ্ভাবনী বিজ্ঞান প্রজেক্ট ও প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন ডা. জুবাইদা রহমান । ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান ঢাকা জেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মোট ৩৭টি দলের মধ্য থেকে চূড়ান্ত বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

প্রতিযোগিতায় অনন্য মেধার স্বাক্ষর রেখে প্রথম স্থান অর্জন করার গৌরব লাভ করে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ। এছাড়া দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে যথাক্রমে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ এবং হলি ক্রস কলেজ।