বাসস
  ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৩১
আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৩

পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে : সিইসি

মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের কার্যক্রম সম্পর্কে রাজনৈতিক দলকে ব্রিফিং করেন সিইসি। ছবি : বাসস

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, পোস্টাল ভোট সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে রাখা হবে।

তিনি বলেন, ‘পোস্টাল ভোট সফলভাবে করতে পারলে এজন্য হয়তোবা একদিন দেখবেন—সারা দুনিয়াতে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। আমার সাথে যখন (বিদেশিরা) দেখা করতে আসে, তখন আমাকে বলে—আপনারা যদি এটা (পোস্টাল ভোট) করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে রাখা হবে। কারণ, অনেক দেশ এটা করতে পারেনি। আমাদের আশেপাশের দেশও এভাবে সফলভাবে করতে পারেনি। আমরা প্রথমবার এটা করছি।’

তিনি বলেন, ‘পোস্টাল ভোট নিয়ে আমাদের কার্যক্রম এখন পর্যন্ত যেটা দেখছি, তাতে খুব একটা খারাপ হয়েছে বলে আমরা মনে করি না। যারা আগে করেছে, তাদের অভিজ্ঞতা আমাদের চাইতে বহু বেশি খারাপ। সেদিক থেকে আমরা কিন্তু এখনো এগিয়ে।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অডিটরিয়ামে পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে ভোটদান কার্যক্রম সম্পর্কে দেশের সকল রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ব্রিফিং অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অতীতে আমাদের দেশে পোস্টাল ভোটের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, আমরাই নিয়েছি। আমাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যখন (পোস্টাল ভোট আয়োজনের) ঘোষণা দিলেন। আমরা অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এই ঝুঁকিটা নিয়েছি। বহু ঝামেলা আসবে। বহু চ্যালেঞ্জ আসবে। আমরা শপথ নিয়েছি যে, আমাদের এটা বাস্তবায়ন করবই। এই বাস্তবায়ন করার প্রক্রিয়ার শুরু থেকে এ পর্যন্ত আপনাদের সহযোগিতা আমরা পেয়েছি।’

গণমাধ্যম কর্মীদের প্রশংসা করে সিইসি বলেন, ‘আমি দেখেছি সবসময় আমাদের সাংবাদিক ভাইদের স্ক্রিনটার (পোস্টাল ভোট নিবন্ধনের ডিসপ্লে স্ক্রিনে) সামনে নিবন্ধনের সংখ্যা দেখার জন্য ঘোরাঘুরি করতে। আপনাদের (সাংবাদিকদের) সহযোগিতা না পেলে আমরা এতদূর আসতে পারতাম না। সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে বারোটা বাজিয়ে দিত। আপনাদের কাছ থেকে মানুষ সঠিক তথ্য পায়।’

দেশে পোস্টাল ভোট নতুন উদ্যোগ উল্লেখ করে সিইসি বলেন, ‘কোনো একটি নতুন উদ্যোগে কিছু হয়তো ভুল ত্রুটি হতে পারে। মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং হতে পারে। অনেক সময় আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ক্লিয়ার হয়ে গেলে, কনফিউশনটা ক্লিয়ার হয়ে গেলে নিজে নিজে বুঝবেন— এখানে আসলে অন্য কোনো মোটিভ কাজ করেনি। এই জিনিসটা হয়েছে। এজন্য সত্যিকারার্থে কী ঘটনা ঘটেছে, সেটা অনেক সময় না জেনে বা না জানার কারণে অনেকের মধ্যে একটি অন্য ধরনের চিন্তাভাবনা আসে। প্রথম থেকেই প্রকাশ করেছি—এটা আমাদের জন্য বিগ চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।’

সিইসি বলেন, ১২২টা দেশে আমাদের প্রবাসীরা পোস্টাল ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন। ১২২ দেশের কালচার, নিয়ম কানুন, পোস্টাল ডিপার্টমেন্টের ১২২ রকমের আইন কানুন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আমাদের টিম কাজ করে যাচ্ছে।

ইসির ব্রিফিংয়ে আসা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রশ্নের জবাব দেন ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে. এম. আলী নেওয়াজ। অনুষ্ঠানে আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান পোস্টাল ভোটিংয়ের পুরো প্রক্রিয়া তুলে ধরেন। 

এ সময় সৌদি আরব, কাতার, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, যুক্তরাজ্য, বাহরাইন, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের কর্মকর্তারা পোস্টাল ভোটের বিষয়ে সেসব দেশের অবস্থা বর্ণনা করেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-অর্ডিনেটর ইসমাইল জবিউল্লাহ ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়াসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও স্বতন্ত্র প্রর্থীরা অংশ নেন।