বাসস
  ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:১৫
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:২৮

গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে: তথ্য উপদেষ্টা

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, গণভোটের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবেই মোকাবিলা করতে হবে, শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নয়।

তিনি বলেন, কোনোভাবেই আর যেন ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে না পারে, এ জন্য সংস্কার জরুরি। অপশাসন থেকে মুক্তি চাইলে সংস্কারের পক্ষে মত দিতে হবে। গণভোটে 'হ্যাঁ' বলতে হবে।

উপদেষ্টা আজ নীলফামারী শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ষোলো বছর ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য জনগণের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। এছাড়াও ফ্যাসিবাদ কায়েম করে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত ঘটনা ঘটানো হয়েছে।

উপদেষ্টা বলেন, আর কোনো রাজনৈতিক দল যাতে স্বেচ্ছাচারী হতে না পারে, সেজন্য গণভোটে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার প্রবণতা প্রতিরোধে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জনগণের রায় হ্যাঁ এর পক্ষে আসলে আর কেউ ইচ্ছামতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। জনগণ ক্ষমতায়িত হবে এবং নাগরিক মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও তিনি বলেন, গুম ও খুনের সংস্কৃতি থেকে উত্তরণ চাইলে, ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে, রাজনৈতিক দলগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিতকরণে জনগণকে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে হবে।

সংসদ প্রতিনিধি নির্বাচন বিষয়ে উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামীতে সরকার গঠনে এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন, যারা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে, নিজের স্বার্থে নয়।

গণভোটে কেউ কেউ ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের ব্যাপারে সরকারের ভূমিকা কী-- এমন প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, এটা তাদের রাজনৈতিক অধিকার।

গণভোটে সেকারণেই ‘না’ অপশনটি রাখা হয়েছে।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবু জাফর, নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম, নীলফামারী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুবাশ্বিরা আয়াতুল্লাহ ও ছাত্র নেতা আলিফ সিদ্দিকী প্রান্ত প্রমুখ।

এ সময় নীলফামারী জেলার বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।