শিরোনাম

ঢাকা, ১১ মে, ২০২৬ (বাসস) : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম আজ অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং অনিয়মিত অভিবাসনের সঙ্গে জড়িত মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ-লিবিয়া-ইতালি রুটে ভূমধ্যসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি অভিবাসীদের মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষাপটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠিত অভিবাসন ও চলাচলবিষয়ক এক বৈঠকে সভাপতিত্বকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অটল রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কর্মকা-ে জড়িত অসাধু চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে।
বৈঠকে পররাষ্ট্র সচিব, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, লিবিয়ার চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এবং ঢাকায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রধান উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনায় ইতালির রাষ্ট্রদূত জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ বছরের জুনে রাজনৈতিক আশ্রয় ও অভিবাসন বিষয়ে একটি নতুন বিধিমালা কার্যকর করতে যাচ্ছে, যেখানে অবৈধ অভিবাসীদের জন্য আইনিপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়ার বিষয়টি ভবিষ্যতে কঠিনতর হয়ে পড়বে।
বৈঠকে ভবিষ্যতে নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন সম্প্রসারণের বিভিন্ন পন্থার মধ্যে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও ভাষাগত পারদর্শিতা অর্জনের পাশাপাশি অভিবাসন প্রত্যাশীদের কাছে নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়াটিকে আরও আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করার উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা সফলভাবে নিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়া পরিচালনার লক্ষ্যে গন্তব্য দেশে লব্ধ কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষতা উন্নয়নের সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি সেসব দেশে নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সংযোগ প্রতিষ্ঠা করে কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা নিশ্চিত করে এমন একটি অভিবাসন কাঠামো সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে অভিবাসী বাংলাদেশিদের আরও সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেন, যাতে করে তারা রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ, দক্ষতা ও তাঁদের চিন্তাধারা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ভিশন বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উন্নয়নের সোপানে নিয়ে যাওয়ার অগ্রযাত্রায় আরও বেশি অবদান রাখতে পারেন।
অবৈধ অভিবাসন রোধে, নিয়মিত অভিবাসনকে উৎসাহিত করতে এবং অভিবাসনের পুরো প্রক্রিয়াটি মানবিক, নিয়মিত ও অধিকারভিত্তিক রাখার জন্য সকলে মিলে একসাথে ও নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার বিষয়ে সকল অংশীজন ঐকমত্য পোষণ করেন।