বাসস
  ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯:৪৫

ন্যায্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্রকাঠামো গড়তে অধ্যাপক আলী রীয়াজের আহ্বান

গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত সিলেট বিভাগের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ । ছবি : বাসস

সিলেট, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, সেবার পথ হচ্ছে ন্যায়ের পথে থাকা। রাষ্ট্রকাঠামোকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে তৈরি করার মাধ্যমেই ভবিষ্যতে একটি সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে। আমরা আশা করি এই চেষ্টায় সকলে মিলে সফল হতে পারবো।

তিনি আজ সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত সিলেট বিভাগের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কেবল একটি জাতীয় সংসদই হবে না, এটি একই সঙ্গে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে, যদিও কয়েকটি বিষয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও জোটের ভিন্নমত রয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিষয়ে তিনি বলেন, বলা হচ্ছে জুলাই সনদে বিসমিল্লাহ তুলে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কেউ যদি কখনো তা দেখাতে পারেন, তাহলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সেদিন থেকেই জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে কথা বলা বন্ধ করে দেবেন। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধ মুছে ফেলার অভিযোগও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রের তিনটি আদর্শ ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে বহাল থাকবে। সেক্ষেত্রে এটি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী হতে পারে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

অধ্যাপক আলী রীয়াজ আরও বলেন, জুলাই সনদ এই সরকারের মেয়াদে বাস্তবায়ন হবে না। জনগণের সম্মতি পেলে ভবিষ্যতে যারা ক্ষমতায় আসবে, তারাই এটি বাস্তবায়ন করবে। রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের ওপর অর্পিত হয়েছে এবং সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, আমাদের সামনে মাত্র দুটি বিকল্প রয়েছে- ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’। নিরপেক্ষ থাকার কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে কিছু পাবেন-বিষয়টি এমন নয়। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, ফ্যাসিবাদের কাঠামো ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদী শাসন ফিরে আসতে না পারে, তার স্থায়ী ব্যবস্থা করা।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। ফ্যাসিবাদ ফিরে এলে আবারও সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হবে। এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসার নৈতিক দায়িত্ব হলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বিজয় নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, গণভোটের প্রচারে কোনো আইনগত বাধা নেই এবং এই প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা কাজে লাগাতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেন, সিলেট বিভাগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে উঠান বৈঠক, ব্যানার, সভা এবং মসজিদে মসজিদে প্রচারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সমন্বিতভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি বলেন, পূর্বের অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

সভায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, এনজিও প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।