শিরোনাম

ঢাকা, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): কৃষিভূমি হ্রাস রোধ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।
নতুন আইনের ফলে এখন থেকে তিন বা ততোধিক ফসলি জমিতে তামাক চাষ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সাথে অনুমতি ব্যতিত কৃষিভূমি অকৃষি কাজে ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
আইন অমান্য করে বিশেষ কৃষি অঞ্চলের ক্ষতি করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে এই অধ্যাদেশে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে গত মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৯ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশটি জারি করেন।
আজ বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার ড. মো. রেজাউল করিম এ তথ্য জানিয়েছেন।
এই অধ্যাদেশ ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে।
অধ্যাদেশটি পার্বত্য চট্টগ্রাম (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি) ব্যতিত সমগ্র বাংলাদেশে অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর প্রধান লক্ষ্য হলো বৈজ্ঞানিক উপায়ে ভূমির অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা (জোনিং) প্রণয়ন এবং কৃষিভূমির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
বিশেষ কৃষি অঞ্চল :
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির (জিআইএস ও রিমোট সেন্সিং) সহায়তায় সারা দেশের জন্য ‘ভূমি ব্যবহার জোনিং ম্যাপ’ প্রণয়ন করবে। প্রতি ১০ বছর অন্তর এই ম্যাপ হালনাগাদ করা হবে।
এছাড়া, খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ কোনো কৃষিপণ্য উৎপাদনকারী এলাকাকে সরকার ‘বিশেষ কৃষি অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। এই অঞ্চলের ভূমি কোনোভাবেই কৃষি ব্যতিত অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
কৃষিভূমি ও জলাধার ব্যবহারে বিধিনিষেধ :
অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, তিন বা ততোধিক ফসলি জমিতে তামাক চাষ করা যাবে না। এক ও দুই ফসলি জমিতেও তামাক চাষ পর্যায়ক্রমে সীমিত করা হবে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো কৃষিভূমি, জলাধার বা জলাভূমিতে বাণিজ্যিক আবাসন, রিসোর্ট বা শিল্পকারখানা নির্মাণ করা যাবে না।
ইটভাটা বা অন্য কোনো প্রয়োজনে কৃষিভূমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল), পাহাড় বা জলাধারের পাড়ের মাটি কাটা ও অপসারণ দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে নিজস্ব কৃষিভূমিতে বসতবাড়ি, উপাসনালয় বা পারিবারিক কবরস্থান নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমতি গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে।
অপরাধ ও দণ্ড :
অধ্যাদেশের তফসিল-২ অনুযায়ী, বিভিন্ন অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
১. অনুমতি ছাড়া জোন পরিবর্তন করলে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড বা ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
২. কৃষিভূমি বা জলাধারে বাণিজ্যিক অবকাঠামো নির্মাণ করলে অনধিক ২ বছরের কারাদণ্ড বা ৪ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
৩. বিশেষ কৃষি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত করার অপরাধে অনধিক ৩ বছরের কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সেই সাথে ভূমির প্রকৃতি পুনঃস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হবে।
৪. কোম্পানি কর্তৃক অপরাধে কোনো কোম্পানি এই আইন লঙ্ঘন করলে তার পরিচালক বা কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী হবেন এবং কোম্পানিকে দ্বিগুণ অর্থদণ্ড করা যাবে।
তদন্ত ও বিচার :
এই অধ্যাদেশের অধীনে সংঘটিত অপরাধসমূহ প্রথম শ্রেণির জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। এছাড়া ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’ এর আওতায়ও তাৎক্ষণিক বিচার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে।