বাসস
  ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৩:৫৩

গতানুগতিক বিরোধী দল হতে চাই না, সংসদকে অর্থবহ করতে চাই : ডা. শফিকুর রহমান 

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। ছবি : বাসস 

ঢাকা, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তারা গতানুগতিক বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় সংসদে ভূমিকা রাখতে চান না। সংসদকে অর্থবহ ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করাই তাদের লক্ষ্য। 

সরকারি দলের সংগত সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন থাকলেও অসংগত পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সাংবিধানিক ভূমিকা পালন করা হবে বলে জানান ডা. শফিকুর রহমান।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সম্মানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্য ও নেতৃবৃন্দ, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সাবেক সদস্য, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক, আলেম-ওলামা, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতাসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা অতীতে এমন বিরোধী দল দেখেছি, যারা কার্যত কার্যকর ছিল না। সে ধরনের বিরোধী দল কোনো দেশের জন্য শুভ বার্তা বয়ে আনতে পারে না। আমরা দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে চাই।’ 

তিনি বলেন, সরকারের সব সংগত পদক্ষেপে তাদের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে। তবে কোনো সিদ্ধান্তকে অসংগত মনে হলে প্রথমে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে, পরামর্শ দেওয়া হবে। সরকার সেই পরামর্শ গ্রহণ করলে জাতি উপকৃত হবে, আর গ্রহণ না করলে বিরোধী দলের যে সাংবিধানিক দায়িত্ব, সেটিই পালন করা হবে।

সংসদকে এগিয়ে যাওয়ার বাহন হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘কোনো বাহন এক চাকা দিয়ে চলে না। সরকারি দল যদি সামনের চাকা হয়, বিরোধী দল হবে পিছনের চাকা। পারস্পরিক সমন্বয় ও সম্মানের ভিত্তিতেই সংসদ এগিয়ে যাবে।’ 

জাতীয় সংসদের একটি সেকেন্ডও অপচয় না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংসদ যেন কারো চরিত্রহননের জায়গা না হয়ে দেশের সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

জামায়াত আমির বলেন, সংবিধানে যেসব ‘কালো আইন’ রয়ে গেছে, সেগুলো দূর করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একইসঙ্গে জাতিকে একটি সম্মানিত ও সুস্থ বিকশিত জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে দাঁড় করাতে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নেও সরকারি ও বিরোধী দলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ ধরনের রাজনীতি চর্চা করা গেলে অতীতের হতাশাজনক ধারা থেকে জাতি মুক্তি পাবে বলে জানান তিনি।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ ও সরকার গঠনের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। সরকার ও সংসদ সেই প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি তার বক্তব্যে ১৯৪৭, ১৯৫২, ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের জন্য দোয়া ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেন। অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

রমজানের শিক্ষা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, তাকওয়া অর্জন ও আমানতের হেফাজতই এ মাসের মূলবার্তা। যাদের অন্তরে আল্লাহ ভীতি থাকে, তারা মানুষের আমানতের খেয়ানত করতে পারে না। 

রাষ্ট্র পরিচালনায়ও এই নৈতিকতা জরুরি উল্লেখ করে তিনি সততা, জবাবদিহিতা ও নৈতিকতার চর্চার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক মোনাজাত পরিচালনা করেন।