বাসস
  ১৫ জুন ২০২৬, ১৮:২১

ঢাবিতে জলবায়ু-সহনশীলতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের উদ্বোধন

সোমবার উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জলবায়ু-সহনশীলতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

ঢাকা, ১৫ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এক্সপোজিং হিডেন হিট : ম্যাপিং হিট-ড্রিভেন হেলথ ডিসপ্যারিটিস অ্যান্ড অ্যাডভান্সিং পলিসি ইমপ্লিকেশন ফর ক্লাইমেট-রেজিলিয়েন্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট ইন ঢাকা, বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। 

নগরে তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসন এবং জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়নে নীতিনির্ধারকদের প্রমাণভিত্তিক সুপারিশ প্রদানের লক্ষ্যে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

ওয়েলকাম ট্রাস্টের অর্থায়নে পরিচালিত এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পে অংশীদার হিসেবে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের টুলেইন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি হেলথ সায়েন্সেস সেন্টার। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গবেষকগণ বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান নগর তাপপ্রবাহের চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন এবং কার্যকর অভিযোজন কৌশল প্রণয়নে ইন্টারডিসিপ্লিনারি গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. হুমায়ুন কবীর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. রবিউল আউয়াল। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, গবেষণা কাঠামো এবং প্রত্যাশিত ফলাফল সম্পর্কে একটি প্রেজেন্টেশন দেওয়া হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, যুক্তরাষ্ট্রের টুলেইন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটি হেলথ সায়েন্সেস সেন্টারের শিক্ষক ও গবেষকবৃন্দ এবং বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রতিনিধি এসময় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রকল্পটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরিচালনা করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগ। বিভাগটি নগর তাপপ্রবাহ এবং এর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আবহাওয়াগত ও জলবায়ুবিষয়ক বিশ্লেষণের দায়িত্ব পালন করবে। উন্নত জলবায়ু তথ্য বিশ্লেষণ, তাপমাত্রা মানচিত্রায়ণ এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বিভাগটি ঢাকার বিভিন্ন অঞ্চলে চরম তাপমাত্রার স্থানিক ও কালিক বৈচিত্র্য শনাক্তকরণে কাজ করবে।  এছাড়া, জলবায়ু-সহনশীল নগর পরিকল্পনার জন্য বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাতিমা আক্তার। তিনি এ প্রকল্পের একজন সহ-প্রধান গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আন্তর্জাতিক এই গবেষণা উদ্যোগের অন্যতম বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব হিসেবে তিনি প্রকল্পের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষণা কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং জলবায়ু বিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য ও নগর উন্নয়ন গবেষণার সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণভিত্তিক জ্ঞান সৃষ্টি করা হবে, যা নীতিনির্ধারক, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের জন্য আরো ন্যায়সঙ্গত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নে সহায়ক হবে। ঢাকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন শহরে জলবায়ু-সহনশীল নগর উন্নয়ন কৌশল প্রণয়নেও গবেষণাটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. বি. এম. ওবায়দুল ইসলাম পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্প পরিচালনার জন্য গবেষকদের ধন্যবাদ জানান। বৈশ্বিক উষ্ণতা, জলবায়ু পরিবর্তন ও চরম তাপপ্রবাহজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই গবেষণা সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। 

পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, গবেষণাকে শুধু ক্লাসরুম বা ল্যাবরেটরিতে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, গবেষণার সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। ক্লাস লেকচারের তাত্ত্বিক বিষয়কে ল্যাবে অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তব জীবনে সফল প্রয়োগ ঘটিয়ে মানবকল্যাণ সাধন করতে পারলেই শিক্ষা ও গবেষণা সার্থক হবে। 

তিনি বলেন, রোগের প্রতিকারের চেয়ে রোগ প্রতিরোধ উত্তম। তাপপ্রবাহজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবিলা ও রোগ প্রতিরোধে এই গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।