শিরোনাম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) আজ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ৫৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে।
আজ সোমবার সকাল ১০টায় পুরাতন কলা ভবনের সামনে মৃৎমঞ্চে জাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান প্রধান অতিথি হিসেবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের উদ্বোধন করেন।
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। উদ্বোধনী ভাষণের পর শান্তির প্রতীক পায়রা এবং বেলুন উড়ানো হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মঞ্চে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ ড. মো. আবদুর রব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান।
উপাচার্য তার উদ্বোধনী ভাষণে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের অনুষ্ঠানে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শুভানুধ্যায়ীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় অতিক্রম করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আজকের এ অবস্থানে এসেছে। আমরা বর্তমানে প্রায় ৩০ হাজার সদস্যের একটি পরিবার।
উপাচার্য বলেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভূমিকা অগ্রগণ্য ছিল। ২০২৪ এ পট পরিবর্তনের পর আমাদের নতুন ভাবনা তৈরি হয়েছে। শুধু জ্ঞান অর্জনই নয়, এর পাশাপাশি নৈতিকতার চর্চাও সমুন্নত রাখতে হবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে এটা আমাদের অঙ্গীকার। এ চর্চা অব্যাহত না রাখলে আবারো কোনো অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার প্রাণ দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ক্ষেত্রেই আমরা অনৈতিকতার চর্চা দেখতে চাই না।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর উপাচার্যের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। আনন্দ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউটের পরিচালক, হল প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ অতিথিগণ অংশগ্রহণ করেন।
আনন্দ শোভাযাত্রাটি সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিভিন্ন আন্দোলনের শহীদগণ এবং সদ্য প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণের প্রতি শোক প্রকাশ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রক্টর, ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক, অফিসার সমিতির সভাপতি, কর্মচারী সমিতির সভাপতি, জাকসুর ভিপি ও জিএস বক্তব্য রাখেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল— ‘মহিলা ক্লাব’ পরিচালিত রাগিণী সংগীত বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাঁধন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কর্তৃক রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, স্মৃতিচারণ, পুতুল নাচ, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি ফুটবল এবং নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রীতি হ্যান্ডবল ম্যাচ, সন্ধ্যায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের উদ্যোগে সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাকসু আয়োজনে সাবেক শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান, র্যাম্প শো, ইনস্ট্রুমেন্ট ও ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন।
এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষ্যে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া চত্বরে পিঠা মেলা এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে আলপনা ও গ্রাফিতি প্রদর্শন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ১২ জানুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়।