বাসস
  ১২ আগস্ট ২০২৬, ১৭:২৫

কবি নজরুল ও শহীদ জিয়ার জাতীয় পরিচয়ের দর্শন ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক : জাবি উপাচার্য

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: বাসস

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ১২ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ধর্মীয়, জাতিগত ও সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে জাতীয় পরিচয়ের একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনে বিশ্বাস করতেন বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

তিনি বলেন, নজরুল বলেছেন, ‘মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান’, আর জিয়াউর রহমান বলেছেন, ‘আপনি হাজং, চাকমা বা যা-ই হোন না কেন, আপনি বাংলাদেশি।’ এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দর্শনই তাঁদের সবচেয়ে বড় সাদৃশ্য।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনে ‘নজরুল বর্ষে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন ও ইন্টারন্যাশনাল পাবলিশিং হাউস যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন, নজরুল ও জিয়াউর রহমানের জাতীয় পরিচয় সম্পর্কিত ধারণা বিভাজনের পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তিনি বলেন, আমাদের এমনভাবে চলা উচিত, যাতে আমাদের পাশে থাকা মানুষটি আমাদের উপস্থিতিতে শান্তি অনুভব করেন।

কবি নজরুলের দাফনের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জাবি উপাচার্য বলেন, জাতীয় কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। এটি কেবল আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা ছিল না; বরং কবির প্রতি জিয়াউর রহমানের গভীর ভালোবাসারও বহিঃপ্রকাশ।

দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অধ্যাপক কামরুল আহসান বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গত ৫ আগস্টের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, বিজয়ীর কাছে পরাজিতরা নিরাপদ থাকলে বিজয়ের আনন্দ মহিমান্বিত হয়।

তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির এই নীতি অনুসরণ করে এবং নিজের বাবা, মায়ের স্মৃতি ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারেক রহমান সবার বসবাসযোগ্য একটি বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় থেকেই ওই বক্তব্য দিয়েছেন।