বাসস
  ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০৬

পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য কুমিল্লা গড়তে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে ৭ দফা প্রস্তাব

ছবি: বাসস

কুমিল্লা, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): মহানগরকে পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, যানজট ও জলাবদ্ধতামুক্ত এবং নাগরিকবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সাত দফা প্রস্তাব দিয়েছে নাগরিক অধিকার ফোরাম কুমিল্লা।

আজ বুধবার কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবুর কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে নগর উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। স্মারকলিপি দেওয়ার আগে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে নাগরিক অধিকার ফোরামের নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আবদুল লতিফ স্মারকলিপিতে থাকা ৭ দফার দাবি ব্যাখ্যা করেন। পরে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শাহাজাদা এমরান।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু বলেন, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করেছে। একটি শিশুর জন্মের পর যেমন নিজের পায়ে দাঁড়াতে সময় লাগে, তেমনি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমও গুছিয়ে নিতে সময় প্রয়োজন। পর্যাপ্ত লোকবল না থাকলেও বিদ্যমান জনবল নিয়ে পরিকল্পিত নগরায়নে কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব হলো পরিকল্পিত নগরায়ন নিশ্চিত করা, অপরিকল্পিত নগরায়ন রোধ করা এবং নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৫৩ বর্গকিলোমিটারের বাইরে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা নিয়ে প্রায় ৩৪৫ দশমিক শূন্য ৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা কর্তৃপক্ষের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে এবং শিগগিরই গেজেট প্রকাশের আশা করা হচ্ছে।

উদবাতুল বারী আবু বলেন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো কর্মকর্তা ঘুষ বা অনৈতিক সুবিধা দাবি করলে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিকল্পিত ও বসবাসযোগ্য কুমিল্লা গড়তে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও নাগরিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন। কুমিল্লার ঐতিহ্য ধরে রেখে আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর ও নিরাপদ নগর গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নাগরিক অধিকার ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম, সহসভাপতি অধ্যক্ষ মো. আবদুল হান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন লিটন, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক রাহুল তারণ পিন্টু, প্রকল্প সংগঠক সৈয়দ আহমেদ লাভলু, অর্থ সম্পাদক অধ্যক্ষ নার্গিস আরা খানম, নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ খলিল উদ্দিন আখন্দ, সুমনা আক্তার স্মৃতি, মীর মো. সোহেল, সাফায়েত উল্লাহ, অ্যাডভোকেট আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।

এদিকে, সাত দফা দাবিতে স্মারকলিপিতে নাগরিক অধিকার ফোরাম উল্লেখ করেন, অবিলম্বে সমন্বিত ‘কুমিল্লা মাস্টারপ্ল্যান’ প্রণয়ন ও কঠোর বাস্তবায়ন, খালপুকুর জলাভূমি ও প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ দখলমুক্ত করে জলাবদ্ধতা মুক্ত কুমিল্লা গড়ে তুলতে হবে, যানজট নিরসনের সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা, ফুটপাত উদ্ধার এবং পথচারীবান্ধব নগর গড়ে তুলতে হবে, নগরীতে ভবন নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে, পরিচ্ছন্ন সবুজ স্বাস্থ্যকর ও নাগরিক বান্ধব কুমিল্লা গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিবেশ পরিকল্পনা গ্রহণ, কুমিল্লার ঐতিহ্য ইতিহাস সংস্কৃতি ও পর্যটন সম্পদ রক্ষা করে হ্যারিটেজ ও ট্যুরিজম নগরী হিসেবে উন্নয়ন, স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক ও নাগরিক অংশগ্রহণমূলক নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠা।

এর আগে মতবিনিময় সভায়, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, স্থপতি, পরিবেশবিদ, ব্যবসায়ী, নারী ও যুব প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি নাগরিক পরামর্শ পরিষদ গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে। উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে দুর্নীতি ও দালালনির্ভরতা থেকে মুক্ত রাখার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে নাগরিক অধিকার ফোরাম বলেছে, উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়; পরিকল্পিত নগর, নিরাপদ সড়ক, নির্মল বাতাস, বিশুদ্ধ পানি, সবুজ মাঠ, দখলমুক্ত ফুটপাত, জলাবদ্ধতামুক্ত পরিবেশ, নিরাপদ ভবন এবং মানুষের মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ। 

নগরীর সমস্যাগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধানে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে চায় সংগঠনটি।