বাসস
  ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২২:৩০

খুলনায় সরকারি উদ্যোগে হবে ২শ’ শয্যার মাদকাসক্ত নিরাময় হাসপাতাল

খুলনা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): জেলায় সরকারি উদ্যোগে নির্মাণ হবে মাদকাসক্ত নিরাময় হাসপাতাল। শহরতলীর অদূরে কৈয়া বাজারের সন্নিকটে  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। রাজবাঁধ মৌজায় সরকারি ১০ একর জমির ওপর খুব দ্রুত গড়ে উঠবে এ হাসপাতাল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশের ৮টি বিভাগীয় শহরে মাদকাসক্ত নিরাময় হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিটি হাসপাতাল হবে ২শ’ শয্যার। 

খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল রাজবাঁধ মৌজায় হাসপাতাল নির্মাণের স্থানটি চূড়ান্ত করেছে। অতিরিক্ত মহাপরিচালক পদমর্যাদার একজনকে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান এসকে ইফতেখার মোহাম্মাদ উমায়ের বাসসকে বলেন, এখানে কম খরচে চিকিৎসা হবে। চিকিৎসা পদ্ধতি আধুনিক।

২৮ দিনে মাদকাসক্ত নারী-পুরুষ সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরতে পারবে। দ্রুত এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।

অপর একটি সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে মুক্তি সেবা নিরাময় কেন্দ্র, প্রগতি মানসিক রোগ ও মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র, অশ্রু নিরাময় কেন্দ্র, সানমুন মাদকাসক্ত, মুনড্রপসহ ৯টি সরকারি সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে মাদকাসক্তদের চিকিৎসা হচ্ছে। 

প্রতিটি কেন্দ্র প্রতি মাসে গড়ে ৫০ জন মাদকাসক্ত ভর্তি হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রতি বছর প্রায় ৭ হাজার মাদকাসক্ত রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। প্রত্যেক রোগীর জন্য অভিভাবকদের প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা গুণতে হয়।

প্রগতি মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তি নিরাময় কেনন্দ্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে ৪০ জন নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিচ্ছে। এরা ঘুমের ওষুধ, মদ, ইয়াবা ও গাঁজায় আসক্ত ছিল।

এ অবস্থায় সরকারি হাসপাতাল স্থাপন হলে এ অঞ্চলের রোগীরা সহজে এবং কম খরচে সেবা পাবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রসঙ্গত, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে খুলনার গল্লামারিতে ‘বিভাগীয় মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র’ নামে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সোনাডাঙ্গা বাইপাসের এম এ বাড়ি সড়কের ২৬ নম্বর হোল্ডিং এর আইডিয়াল নার্সিংহোম ভবনের তৃতীয় ও পঞ্চম তালায় এ কেন্দ্র অবস্থিত। 

প্রতি মাসে সরকারি কোষাগার থেকে মোটা অংকের ভাড়া গুণতে হচ্ছে। এই এ প্রতিষ্ঠানের ৪১ জন জনবল এর মধ্যে ১৫ জন কর্মকর্তা কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। দায়িত্ব পালন না করেই তারা সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।

বিষয়টি স্বীকার করে পূণর্বাসন কেন্দ্রের কাউন্সেলর সৈকত মন্ডল বাসসকে জানান, আড়াই বছর যাবত এখানে কোনো চিকিৎসক নেই। ২৫ শয্যার হাসপাতাল নামমাত্র। আবাসিক চিকিৎসা সুবিধা নেই। এখানে কোনো রোগী ভর্তি করা হয় না, শুধুমাত্র আউটডোর কাউন্সিলিং করা হয়। এখানে তার আড়াই বছরের কর্মজীবনে কোনো রোগী ভর্তি হতে দেখেননি তিনি।