শিরোনাম

মেহেরপুর, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): জেলায় ধর্ষণের দায়ে কলিম উদ্দিন ওরফে কালু (৫৫) নামে এক ইউপি সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রোববার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত কলিম উদ্দিন ওরফে কালু মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্ডলের ছেলে। পাশাপাশি তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা এবং পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
রায় ঘোষণার পর আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করে তাকে মেহেরপুর জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে রায় ঘোষণার পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন মামলার বিবরণ দিয়ে জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এরপর তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, আসামির ওপর আরোপিত অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে।
আসামির বর্তমান সম্পদ থেকে ওই অর্থ আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তার মালিকানাধীন বা অধিকারভুক্ত সম্পদ থেকে তা আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের দাবিটি অন্য যেকোনো দাবির চেয়ে অগ্রাধিকার পাবে।
এ ছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারার বিধান অনুযায়ী আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার জন্য মেহেরপুরের ডেপুটি কালেক্টরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ওই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা হওয়ার পর তা মামলার ভুক্তভোগীকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন আরও জানান, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্ত কালুর অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।