শিরোনাম

পঞ্চগড়, ২০ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : একাধিক মামলায় পলাতক পঞ্চগড় পৌর যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর হাসনাত মো. হামিদুর রহমানকে এবার ৩০টি ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই অভিযানে তার ছোট ভাই ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা হাবিবুর রহমান শিশিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টার দিকে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের কুন্দুরা সেতু এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হাসনাত মো. হামিদুর রহমান (৩৮) পঞ্চগড় পৌর যুবলীগের সভাপতি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর। তার ছোট ভাই হাবিবুর রহমান শিশির (২৮) নিষিদ্ধ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক। তারা পঞ্চগড় পৌরসভার কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মোকলেছুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওবায়দুল হক ফোর্স নিয়ে নাফানগর ইউনিয়নের সেনিহারী গ্রামের কুন্দুরা সেতু এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় দুই ভাইয়ের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাদের আটক করে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির এক পর্যায়ে তাদের কাছ থেকে ৩০টি কমলা রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া প্রতিটি ইয়াবার ওজন শূন্য দশমিক ১ গ্রাম। সে হিসেবে মোট ওজন ৩ গ্রাম। প্রতি পিস ইয়াবার মূল্য ৩শ’ টাকা ধরে জব্দ করা মাদকের আনুমানিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় বোচাগঞ্জ থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(ক)/৪১ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে উপপরিদর্শক সুমন কুমার সরকারকে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন দুই সহোদর।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, হাসনাতের বিরুদ্ধে পঞ্চগড় সদর ও দেবীগঞ্জ থানায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, জুলাই আন্দোলনে ইজিবাইকচালক আল আমিন হত্যা ও গুমসহ জুলাই অভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট একাধিক মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, শিশিরের বিরুদ্ধেও পূর্বের একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বোচাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বাসস’কে বলেন, এই দুই সহোদর দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার বিষয়টি জেনেছি। মাদকের মামলায় তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকলেছুর রহমান বাসস’কে বলেন, হাসনাত ও তার ভাই শিশিরকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে থাকা একাধিক মামলার তথ্য বোচাগঞ্জ থানাকে বেতার বার্তার মাধ্যমে জানানো হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে পঞ্চগড়ের মামলাগুলোতে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখিয়ে তাদের পঞ্চগড়ে নিয়ে আসা হবে।