বাসস
  ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৪

বিদেশগামীদের জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়া চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস): বিদেশগামী নাগরিকদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার নামে প্রতারণা, সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে সনদ তৈরি এবং নকল ওয়েবসাইট ও কিউআর কোড ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মো. আশরাফ আলী খান (৩৬), মো. নিশান (৩৬), মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন (৪৮) ও মো. আবদুর রহমান (৪৬)।

সোমবার (১৭ আগস্ট) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) যৌথ অভিযানে বাঁশখালী ও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে রোববার দিবাগত রাতে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, বিদেশগামী এক ব্যক্তির পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজনকে কেন্দ্র করে চক্রটির কার্যক্রমের সন্ধান পাওয়া যায়। সহজে ও অল্প সময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চক্রের সদস্যরা ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নেন। পরে সরকারি কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে প্রকৃত পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের আদলে একটি জাল সনদ তৈরি করা হয়। প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করতে প্রকৃত পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের কিউআর কোডের আদলে নকল কিউআর কোড এবং একটি নকল ওয়েবসাইট তৈরি করে চক্রটি।

পুলিশের ভাষ্য, ওই কিউআর কোড স্ক্যান করে সনদ যাচাই করা হলে প্রকৃত সরকারি ওয়েবসাইটের পরিবর্তে চক্রটির তৈরি নকল ওয়েবসাইটে তথ্য প্রদর্শিত হতো। ফলে জাল সনদটিকে আসল বলে মনে করার সুযোগ তৈরি হয়। চক্রটির তৈরি জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্সটি প্রকৃত মনে করে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিতে জমা দেন ভুক্তভোগী। পরে ট্রাভেল এজেন্সির যাচাইয়ে সেটি জাল হিসেবে শনাক্ত হয়। এরপর বিষয়টি জানিয়ে চট্টগ্রাম পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ, পারস্পরিক যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করা হয়।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় অল্প সময়ের মধ্যেই চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে জাল পুলিশ ক্লিয়ারেন্স তৈরি, নকল ওয়েবসাইট ও কিউআর কোড ব্যবহার এবং অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত চার সদস্যকে বাঁশখালী ও চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল বলেন, ‘সরকারি নথি জালিয়াতি, প্রযুক্তির অপব্যবহার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণাই নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের সরকারি নথির বিশ্বাসযোগ্যতা ও দেশের ভাবমূর্তির জন্যও ঝুঁকি তৈরি করে।