শিরোনাম

চাঁদপুর, ১৮ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : আমদানি বাড়ায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় জেলেদের আহরিত ইলিশের দাম কিছুটা কমেছে। এক কেজি ওজনের ইলিশ গত কয়েকদিন আগেও বিক্রি হয়েছে ৩ হাজার ২শ’ টাকা।
এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। ইলিশের ভরা মৌসুমে আমদানি বৃদ্ধি হলে দাম আরও কমার সম্ভাবনা জানিয়েছে ব্যবসায়ীরা।
আজ মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত সদর উপজেলার হানারচর ইউনিয়নের হরিণা ফেরিঘাট সংলগ্ন ইলিশের আড়তে গিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
এই আড়তে জেলেরা নদী থেকে ইলিশসহ অনান্য মাছ আহরণ করে সরাসরি এনে বরফ ছাড়াই বিক্রি করে।
হরিণা আড়তে গিয়ে দেখা গেছে ইলিশ কেনাবেচার ব্যস্ততা। গত এক সপ্তাহ আগেও এই আড়তগুলোতে ক্রেতার সংখ্যা ছিল খুবই কম। কারণ তখন জেলেরা অধিকাংশ সময় নদী থেকে খালি হাতে ফিরে এসেছে।
হরিণা ঘাটের পাশের এলাকা বহরিয়ার জেলে হান্নান গাজী বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া হয়নি। কারণ জ¦ালানি খরচ উঠেনি। গত দুইদিন আবার নদীতে ইলিশের বিচরণ বেড়েছে। প্রস্তুতি নিচ্ছি আবারও নদীতে নামব।
কুমিল্লা থেকে তাজা ইলিশ কিনতে এসেছেন খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, ৮শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ৪টি ইলিশ কিনেছেন ৯ হাজার টাকা দিয়ে। আর বিভিন্ন সাইজের মিলিয়ে তিনি ১৮ হাজার টাকার ইলিশ কিনেছেন। এই ঘাটে আসার কারণ হচ্ছে বরফ ছাড়া সরাসরি পদ্মা-মেঘনার তাজা ইলিশ পাওয়া যায়।
এই ঘাটের পাইকারি ইলিশ বিক্রেতা জসিম উদ্দিন সৈয়াল বলেন, গত এক সপ্তাহ পূর্বে ইলিশের আমদানি ছিল খুবই কম। গত কয়েকদিন আবার জেলেদের জালে বিভিন্ন সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। বর্তমানে ১ কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা।
এক সপ্তাহ পূর্বে ছিল ৩ হাজার ২শ’ টাকা। ৮শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইশিল বিক্রি হচ্ছে ১৮শ’ থেকে ২ হাজার টাকা। আর ছোট সাইজের ইলিশ প্রতিকেজি ৭শ’ থেকে ৮শ’ টাকা।
একই আড়তের প্রবণী মাছ বিক্রেতা সিরাজুল ইসলাম বলেন, নদীতে এখন পানি আছে এবং ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। এমন অবস্থা বিরাজ করলে ইলিশের আমদানি আরও বাড়বে। আমদানি বাড়লে দামও কমে আসবে।
চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বাসসকে বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। নদীতে ইলিশের বিচরণ বাড়বে এবং জেলেরাও ইলিশ পাবে। হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।