শিরোনাম

চট্টগ্রাম, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘির পাড় জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হয়েছে।
এ ঘটনায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার (ক্যাশ ইনচার্জ) মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং মো. জাফরুল্লাহ তানভীর (২৫) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, গায়েব হওয়া অর্থ বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা বের করার চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষে ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকা কামরুল হোসেন নগদ অর্থ ও ভল্টে সংরক্ষিত অর্থের হিসাব মেলাতে গিয়ে গরমিল দেখতে পান। পরে ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ঘাটতি পাওয়া যায়। এ বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি।
ঘটনার পর ওই রাতেই কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব কর্পোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। জাফরুল্লাহ তানভীর ব্যাংকের কর্মকর্তা নন। তিনি একজন ব্যবসায়ী।
গ্রেফতার তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ বলেন, ‘আমার ছেলে ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা বা গ্রাহক নন। তিনি আগে থেকেই গরুর খামার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার কাছে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, এমন কোনো তথ্য বা রেকর্ড ব্যাংক দেখাতে পারেনি।’ তিনি দাবি করেন, ব্যাংক কর্মকর্তা কামরুল হোসেন লাভের চুক্তিতে তানভীরকে বিভিন্ন সময় টাকা দিতেন। পরে লাভসহ মূল টাকা ফেরত নিতেন।
এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ভল্টে টাকা জমা দেওয়ার সময় ১ হাজার টাকার নোটের বড় বান্ডিলের ভেতরে ১০০ টাকা বা তার কম মূল্যমানের নোট ঢুকিয়ে বান্ডিল সাজানো হতো। ফলে বাইরে থেকে দেখে ভল্টে পুরো টাকা রয়েছে বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল কম।
অভিযোগ রয়েছে, এভাবে সরানো অর্থ বিশেষ শর্তে জাফরুল্লাহ তানভীরের কাছে বিনিয়োগ করা হয়। ওই অর্থ দিয়ে হাটহাজারীর উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত এগ্রো’ নামে একটি গরুর খামারের কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে ওই খামারে বিভিন্ন জাতের ৫০ থেকে ৬০টি গরু রয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বাসস’কে বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের তথ্য ও রেকর্ড এবং ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, অগ্রণী ব্যাংক কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. মোতাহের হোসেন বলেন, ঘটনাটি নিয়ে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট চলছে। অডিট শেষ হলে অর্থের ঘাটতি ও ঘটনায় অন্য কারো সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।