বাসস
  ১১ জুলাই ২০২৬, ১৪:১৬

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বিপর্যস্ত রাঙ্গামাটির কয়েকটি  উপজেলার  জনজীবন

বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছবি: বাসস

রাঙ্গামাটি, ১১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ।

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার মধ্যে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, বিলাইছড়ি উপজেলার নিম্নাঞ্চল বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের সাথে সঙ্গে ভারী বৃষ্টির পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক জলাবদ্ধতা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার ঘরবাড়ি কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন।

এদিকে বরকল উপজেলার ভুষনছড়া,বড়কুড়াদিয়া,এরাবুনিয়া,কলাবুনিয়া,বামল্যান্ড, ও কুকিছড়া এলাকায় লোকজন ঘর বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করছে। পায়ে হাঁটা রাস্তার একাধিক জায়গায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার চলাচলের একমাত্র অবলম্বন বাইক সেবা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও বাড়ির আঙিনা, কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অনেক এলাকায় ঘরবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে থাকায় মানুষ কার্যত গৃহবন্দী হয়ে পড়েছেন।

সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের বাসিন্দারা। নিরাপদ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন নৌ যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না।

ভুষনছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ময়না বেগম বাসস’কে জানান, মাত্র কয়েকদিন আগেও যেখানে গরু, ছাগল  চরত, সেখানে এখন নৌকা চালিয়ে চলাচল করছে গ্রামের ছেলেরা। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির চারপাশে পানি জমে আছে। অনেকের ঘরে পানি ঢুকে গেছে। চুলা ডুবে যাওয়ায় রান্না করা যাচ্ছে না। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছে।

ভুষনছড়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুস সালাম জানান, টানা বর্র্ষণে মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় লোকজন ব্যাপক অসুবিধায় রয়েছে। তিনি সরকারী ত্রাণ সহায়তা আরো বৃদ্ধির জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

বরকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বাসস’কে জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। অনেক জায়গায় শুকনো খাবার ও সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

একই রকম অবস্থা বাঘাইছড়ি, লংগদু ও বিলাইছড়ি উপজেলার। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ‎বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

বিশেষ করে বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া ইউনিয়ন প্রায় পুরোটাই পানিতে ডুবে গেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি  সরকারি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে বাসস’কে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী।

তিনি বাসস’কে জানান, গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ  আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। গতকাল থেকেই জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাহাড় ধস বা টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সম্ভাব্য আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী আরো জানান, পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলা-উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

এদিকে আজ দুই দিনের সফরে পার্বত্য চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার সফরে আসছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এমপি।

সকালে তিনি খাগড়াছড়ি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সন্ধ্যায় রাঙ্গামাটিতে আসবেন। আগামীকাল তিনি রাঙ্গামাটি পাহাড় ধসসহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন এবং পরে বান্দরবান ও কক্সবাজার সফর করবেন।