বাসস
  ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৩:৪৬

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রত্যেকের জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করার আহ্বান প্রশাসনের

ছবি: বাসস

নোয়াখালী, ৮ জুলাই ২০২৬ (বাসস): বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রত্যেক নাগরিকের জন্ম নিবন্ধন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে নোয়াখালী জেলা প্রশাসন। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানানো হয়। 

নোয়াখালী জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে আজ সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, অনেক অভিভাবক না বুঝে সন্তানকে বাল্য বিয়ে দেন। বিয়ে রেজিস্ট্রেশন না করেই তারা বিবাহ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কোনো সমস্যা হলে আইনি আশ্রয় নিতে পারেন না। বাংলাদেশের আইনে প্রত্যেক নাগরিকের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। সেক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ বন্ধে নোটারি, পাবলিক, কাজী, ইমাম, পুরোহিত সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। বিয়ে পড়ানোর আগে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করে বর ও কনের বয়স নিশ্চিত হতে হবে। কোনো যুক্তিতেই বাল্য বিয়েকে বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক বলেন, নারী ও শিশুর প্রতি শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও যৌন নির্যাতন বন্ধে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বাসাবাড়িতে শিশু ও গৃহকর্মীদের উপর নির্যাতন করা হয়। শিক্ষিত ও উচ্চবিত্ত পরিবারে এসব ঘটনা বেশি ঘটে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে নারীদের প্রতি সাইবার বুলিং বেশি হচ্ছে। নিরাপদ সাইবার জগৎ তৈরিতে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শান্তনু কুমার দাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক কামরুন নাহার। 

সভায় বক্তারা বলেন, সমাজে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবারে নারীরা শুধু পুরুষের নয়, অনেক ক্ষেত্রে নারীদের দ্বারাও নির্যাতনের শিকার হন। তাই নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে নারী-পুরুষ উভয়কেই সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পরিবার থেকেই সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ছেলে ও মেয়ে উভয়কেই সুশাসন ও পারিবারিক মূল্যবোধের মধ্যে বড় করে তুলতে হবে। যাতে তারা কোনো ধরনের অপরাধ, হয়রানি বা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে নজর রাখতে হবে। 

আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী পুলিশ সুপার (চাটখিল সার্কেল) মনীষ দাশ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিক্যাল অফিসার ডা. পপি রানী কুন্ডু, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইশরাত নাসিমা হাবীব, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জেড এম মিজানুর রহমান খান এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল মবিন মিয়া। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও নারী অধিকার কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।