বাসস
  ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫৫

বাগেরহাটে হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রতীকী ছবি

বাগেরহাট,২২ জুন, ২০২৬ (বাসস) : চিতলমারীর বহুল আলোচিত কলেজ শিক্ষার্থী আমির হামজা হত্যা মামলার আরেক গুরুত্বপূর্ণ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা এজাহারভুক্ত আসামি মো. সোহেল প্রধান ওরফে ‘বডি সোহেল’ (২৬) অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে। মামলার তদন্তে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে র‌্যাব-৬ খুলনার সহযোগিতায় এবং চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকেয়া খানমের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত অভিযানে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার নোয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার সোহেল খুলনা সদর থানাধীন চানমারী বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তিনি চিতলমারী থানার হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ বিকেলে চিতলমারী উপজেলার শিবপুর গ্রামে নির্মম হত্যাকা-েণ্ডর শিকার হন আমির হামজা (২৩)। তিনি খুলনা সরকারি সুন্দরবন কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সঙ্গে জীবিকার তাগিদে খুলনায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিও করতেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার দিন তিনটি মোটরসাইকেলে করে ৬জন হেলমেটধারী ব্যক্তি আমির হামজার বাড়িতে যায়। নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তারা তাকে ডেকে বের করার চেষ্টা করে। পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে হামজা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা তাকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে খালের পাড় ও চিত্রা নদী সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে তার মাথায় গুলি করা হয়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এই হত্যাকা-েণ্ডর পর এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং নিহতের পরিবার জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানায়। ঘটনার পর থেকেই চিতলমারী থানা পুলিশ আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে একাধিক অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

পুলিশ জানায়, এরআগে একই মামলার আরেক এজাহারভুক্ত আসামি ‘ব্ল্যাক বাপ্পি’কে ঢাকার একটি এলাকা থেকে র‌্যাবের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সর্বশেষ বডি সোহেলের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার তদন্ত আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান,চিতলমারী থানার ওসি রোকেয়া খানম দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন জটিল ও আলোচিত মামলার তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। আমির হামজা হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের আন্তরিক প্রচেষ্টা অভিযানে গতি এনেছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।