বাসস
  ১৭ জুন ২০২৬, ১১:৫৯
আপডেট : ১৭ জুন ২০২৬, ১২:০৯

সুনামগঞ্জে অভিযানে জরিমানা; জাল ধ্বংস 

সুনামগঞ্জ, ১৭ জুন, ২০২৬ (বাসস) : হাওরের রাজধানী সুনামগঞ্জ। মৎস্য, পাথর ও ধান সুনামগঞ্জের প্রাণ বলে খ্যাতি রয়েছে। তুলনামূলকভাবে হাওরের মাছ কমে যাচ্ছে।  মে-জুন মাসে হাওরেরর মাছ বেড় উঠার সময়। এই সময়ে হাওরে পানি কম থাকে এবং এই সময়ে মাছ বংশ বিস্তার করে।

দ্রুত বেড়ে উঠার সময় মাছ ধরায় বছরের অন্য মৌসুমে ‘মাছের দেশেই মাছের আকাল’ দেখা দেয় বলে জানিয়েছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।

তাই সুনামগঞ্জ জেলায় ২৯ মে থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত এক মাসব্যাপী হাওরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।

কিন্তু অনেক অসাধু ব্যক্তি ও মৎস্যজীবী এখনো মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করছেন।

জেলার টাঙ্গুয়ার হাওর, ছেফটির হাওর, দেখার হাওর, পাখিমারা হাওর, খরচার হাওরসহ ছোট বড় ১৩৭টি হাওরে লক্ষাধিক মৎস্যজীবীরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১ লক্ষা ১২ হাজার তালিকাভুক্ত জেলে মাছ ধরার সাথে যুক্ত কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তালিকার চেয়ে দ্বিগুণ আছেন তালিকার বাইরে।

জানা যায়, গত দুই সপ্তাহে মাছ ধরা বন্ধে ৩৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জেলার মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়, বিভিন্ন উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট উপজেলার ইউএনওসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় এসব অভিযান বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১২জন জেলেকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে ২৫৭টি চায়না দুয়ারি জালসহ বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য জাল ও প্লাস্টিক ছাই।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, হাওরে পানি থাকবে আর এক মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকবে-সরকারের এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই হাওরপাড়ের মানুষ মেনে নিচ্ছে না। তবে, অনেকেই মাছ না ধরার জন্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করছেন।

হাওরে মাছ ধরা, বিক্রি ও বাজারজাত করণের সাথে সম্পৃক্ত এমন একাধিক জেলে বাসস’কে জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি পেশা নয়। এখানে জড়িত আছে জেলেদের জীবিকা। সন্তানদের লেখাপড়া, পরিবারের ভরণ-পোষণ চিকিৎসা।

খরচার হাওরপাড়ের বড়ঘাট গ্রামের চল্লিশোর্ধ একজন জেলে আবদুল হক বাসস’কে বলেন বুঝে উঠার পর থেকেই তিনি হাওরে মাছ ধরেন। ছোট বেলা থেকেই মাছের ব্যবসা করেন।

তিনি বলেন, এখন সরকার বলছে এক মাস মাছ না ধরতে। আমাদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হোক।

দেখার হাওরের জেলে আলীম উদ্দিন ও সোহেল মিয়ার দাবি, এভাবে শুধু ঘোষণা দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করা যাবে না।  সরকারি প্রণোদনা অথবা বিকল্প কর্মসংস্থান জরুরি।

সুনামগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. আল মিনান নূর বাসস’কে বলেন, এটা সত্য যে দীর্ঘ এক মাস মাছ ধরা বন্ধ রাখা জেলেদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব। কিন্তু আমরা যে কাজটি করতে চাইছি এটি কিন্তু জেলেদের লাভের জন্য করা হচ্ছে। এখন হাওরে মাছের বেড়ে উঠার সময়। তুলনামূলক পানি কম, মাছেরা সেরকম করে ছোটাছুটি করতে পারছে না। মাছ বড় হলে খেতে স্বাদ ও দাম পাওয়া যাবে। বেশি মাছ পাওয়া যাবে-তাই আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিকল্প কর্মসংস্থান বা প্রণোদনার জন্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি।