বাসস
  ০৯ জুন ২০২৬, ১০:৫৩

বাগেরহাটে জেলেদের মাঝে ছাগল বিতরণ

ফকিরহাট উপজেলায় ২০ জন নিবন্ধিত মৎস্যজীবীর মাঝে ৮০টি ছাগল বিতরণ করা হয়। ছবি: বাসস

বাগেরহাট, ৯ জুন, ২০২৬ (বাসস) : মাছের প্রজনন মৌসুমে নদী-নালা ও জলাশয়ে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়-রোজগার থেকে বঞ্চিত হওয়া জেলে পরিবারের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে জেলার ফকিরহাট উপজেলায় ২০ জন নিবন্ধিত মৎস্যজীবীর মাঝে ৮০টি ছাগল, ছাগলের খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ঔষধ বিতরণ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দুপুরে ফকিরহাট উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প (১ম সংশোধিত)’ -এর আওতায় নিবন্ধিত মৎস্যজীবীদের বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজ জামান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ আসাদুল্লাহসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা উপকারভোগীদের হাতে চারটি করে মোট ৮০টি ছাগল, প্রয়োজনীয় খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী তুলে দেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নির্দিষ্ট সময়ে মাছ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও এর প্রভাব সরাসরি পড়ে জেলে পরিবারের ওপর। অনেক পরিবার ওই সময়ে অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে যায়। তাই তাদের জীবনমান উন্নয়ন ও টেকসই জীবিকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানভিত্তিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

বক্তারা আরও বলেন, ছাগল পালন একটি লাভজনক ও সহজলভ্য উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এটি জেলে পরিবারের জন্য স্থায়ী আয়ের উৎসে পরিণত হতে পারে। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবারগুলো আর্থিকভাবে লাভবান হবে, অন্যদিকে তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথও সুগম হবে।

সহায়তা পাওয়া জেলেরা সরকারের এ উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে সংসার চালাতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ছাগল পালন তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে এবং পরিবারের অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নিবন্ধিত মৎস্যজীবীদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহায়তা কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে অব্যাহত রাখা হবে।