শিরোনাম

বগুড়া, ৬ জুন (বাসস): জেলার নন্দীগ্রাম ও শিবগঞ্জ থানা এলাকায় সংঘটিত দুটি চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১টি মোটরসাইকেল, ১টি বাটন মোবাইল ফোন, নগদ ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ৭.৫ (সাত দশমিক পাঁচ) আনা স্বর্ণালংকার ও ইমিটেশনের গহনা উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বগুড়ার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় নন্দীগ্রাম ও শিবগঞ্জ থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর তত্ত্বাবধানে এসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ ফজলুল হক এবং এসআই (নিরস্ত্র) মো. আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে ডিবির একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তি ও নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল (৫ জুন) বগুড়া জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে আসামিদের গ্রেফতার করে।
সূত্র জানায়, গত ১২ মে (মঙ্গলবার) রাতে নন্দীগ্রাম থানার বীরপলি (ফকিরপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা মো. রশিদুল আলমের বাসায় ৮ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল প্রবেশ করে মোটরসাইকেল, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ও নগদ টাকাসহ মালামাল লুট করে। এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মামলা (নং-১৭, তারিখ-১৮/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড) দায়ের করা হলে গোয়েন্দা পুলিশ তদন্তে নামে।
গতকাল জেলার কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও সদর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এই ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, দুপচাঁচিয়া থানার তালোড়া (শাবলা) গ্রামের মো. হাফিজার রহমানের পুত্র মো. আসলাম সাকিদার (২৭), একই এলাকার মৃত কমর ওরফে কমের উদ্দিনের পুত্র মো. জিয়ারুল ইসলাম ওরফে জিয়াউর রহমান (৪৬) এবং শিবগঞ্জ থানার রহবল পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত আবুল মন্ডলের পুত্র মো. সাইদুর মন্ডল ওরফে মগা (৩৬)। আসামিদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ১টি মোটরসাইকেল, ১টি বাটন মোবাইল এবং নগদ ৫,৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
৩১ মে ২০২৬ ( রোববার ) রাতে শিবগঞ্জ থানার দক্ষিণ দহপাড়া গ্রামের মো. জিয়াউল হকের বাসায় অপর ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানে ৮ থেকে ১০ জনের ডাকাত দল গৃহকর্তাকে আঘাত ও রক্তাক্ত জখম করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, স্মার্টফোন ও দলিলপত্রাদি ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় মামলা (নং-৪৬, তারিখ-৩১/০৫/২০২৬ খ্রি., ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড) দায়ের করা হয়।
গতকাল (৫ জুন) গোয়েন্দা পুলিশ শিবগঞ্জ ও কাহালু থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ ঘটনার সাথে জড়িত ২ আসামিকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন, দুপচাঁচিয়া থানার তালোড়া (নওদাপাড়া) গ্রামের মো. নবাব আলী প্রামাণিক এর ছেলে মো. জুয়েল প্রামাণিক (২৪) এবং কাহালু থানার প্রতাপপুর গ্রামের হাছেন আলীর পুত্র মো. আ. ওহাব (২৮)। তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৭.৫ আনা স্বর্ণালংকার (একটি স্বর্ণের চেইন ও একটি কানের দুল) এবং কিছু ইমিটেশনের গহনা জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আগের একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১নং আসামি মো. আসলাম সাকিদারের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা, ২নং আসামি মো. জিয়ারুল ইসলাম ওরফে জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ১টি মামলা, ৩নং আসামি মো. সাইদুর মন্ডল ওরফে মগার বিরুদ্ধে ২টি মামলা এবং ৪নং আসামি মো. জুয়েল প্রামাণিকের বিরুদ্ধে পূর্বের ১০টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বগুড়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, এই জোড়া ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।