বাসস
  ০৬ জুন ২০২৬, ১৭:০৭

রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রে বিরল প্রজাতির ধুমকলার নতুন চারা রোপণ

ছবি : বাসস

রংপুর, ৬ জুন ২০২৬ (বাসস): জেলার পায়রাবন্দে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রে বিরল প্রজাতির ধুমকলার নতুন চারা রোপণ করা হয়েছে। গতকাল ৫ জুন (শুক্রবার) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সেখানে একটি ধুমকলার চারা রোপণ করা হয়।

স্মৃতিকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ১৮০ বছর আগে ডেকোরেশনের জন্য নারী জাগরণের অগ্রদূত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের বাবা পায়রাবন্দের জমিদার জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের জার্মানি থেকে ধুমকলার কয়েকটি গাছ নিয়ে আসেন। একসময় তিনটির অস্তিত্ব থাকলেও এখন আর নেই। রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের খোর্দ্দমুরাদপুর গ্রামে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলা একাডেমি পরিচালিত প্রতিষ্ঠান বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের ভেতরে এখন একটি মাত্র গাছ টিকে আছে। গতকালে সেখানেই আরও একটি চারা রোপণ করা হয়।

বাংলা একাডেমির সহপরিচালক এবং বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবিদ করিম মুন্না সহকর্মীদের নিয়ে নতুন চারাগাছটি রোপণ করেন। তিনি জানান, ধুমকলা গাছটি দুষ্প্রাপ্য এবং বিরল প্রজাতির। বেগম রোকেয়ার পৈতৃক বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণা থেকে পাওয়া ধুমকলার চারা ১৯৯৭ সালে স্মৃতিকেন্দ্রে প্রথম লাগানো হয়।

পায়রাবন্দের বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, ধারণা করা হয়, ১৮৪০ সালের দিকে জার্মানি থেকে বেশ কিছু গাছ নিয়ে এসেছিলেন রোকেয়ার বাবা। অযতœ-অবহেলায় পড়ে থাকলেও একের পর এক বংশবৃদ্ধি প্রাকৃতিকভাবে চলমান ছিল।

জানা যায়, বীজ থেকেই চারা জন্মায়। অর্থাৎ এক বীজে একটি কলার চারা। পৃথিবীতে কলার বীজ থেকে সাধারণত চারা উৎপাদিত হয় না। কলাগাছের সাধারণত অঙ্গজ প্রজনন বা গুড়িকন্দের মাধ্যমে বংশবিস্তার হয়ে থাকে। এমন গাছ দেশের অন্য কোথাও নেই।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্মৃতিকেন্দ্রের মিলনায়তনের লবির নিচে একটি ধুমকলা গাছে নতুন কাঁদি এসেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও ফল এসেছিল। সেসময় অনেক দর্শনার্থী ফলটির মোহময় রূপ দেখে এবং খেয়ে মুগ্ধ হন।

বিচিত্র এই কলাগাছটি সম্পর্কে আবিদ করিম মুন্না জানান, এই কলা গাছে বিশাল একটি কাঁদি হয়। উচ্চতায় প্রায় ৫ ফুট, যা সাধারণ কলাগাছের মতো নয়। বড় হলে কলাগাছের গোড়া পামগাছের মতো গোল হয়। একটি কাঁদিতে হাজার হাজার কলা হয় এবং আকার এক থেকে দেড় ইঞ্চি। কলার ভেতরটা হলুদাভ এবং প্রচুর বীজ হয়। খেতে মিষ্টি। তবে বীজ বেশি থাকার কারণে খেতে কিছুটা বিরক্তি বোধ হয়।