শিরোনাম

বগুড়া, ২৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পবিত্র ঈদুল আযহার নামাজ আদায় ও ঈদ উদযাপন করেছেন একদল মুসল্লি। বুধবার সকাল সাড়ে ৭ টার দিকে গাবতলী রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। একইভাবে জেলার সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার কয়েকটি স্থানেও আগাম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গাবতলীতে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন করা হলো। বৈরি আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে মসজিদের ভেতরে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অন্য বছরের তুলনায় মুসল্লিদের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিল। নারী ও শিশুসহ অর্ধ-শতাধিক মুসল্লি জামাতে অংশ নেন। গাবতলী ছাড়াও কাহালু ও ধুনট উপজেলা থেকে কয়েকজন মুসল্লি সেখানে যোগ দেন। জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
ইমামতি করা মিজানুর রহমান বলেন, ‘তিনি পেশায় একজন দর্জি এবং দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি জ্ঞানচর্চা করছেন। তাঁর ভাষ্য, ২০১২ সাল থেকে তাঁরা এ পদ্ধতিতে ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। বিশ্বজুড়ে চাঁদ একটাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে সৌদি আরবে চাঁদ দেখার খবর দ্রুতই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়। তাই সেখানে চাঁদ দেখা গেলে ইসলামী বিধান অনুযায়ী আমল শুরু হওয়া উচিত বলে তাঁরা মনে করেন।
ধুনট থেকে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লি আব্দুস সালাম বলেন, সৌদি আরবে আরাফাতের দিন অতিবাহিত হওয়ার পরদিন সেখানে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে। সে কারণেই তাঁরা সৌদির সঙ্গে মিল রেখে রোজা পালন ও ঈদের নামাজ আদায় করেছেন।
তিনি জানান, জামাতে অংশ নেওয়া অনেকেই বুধবার নিজ নিজ বাড়িতে কোরবানি দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।
গাবতলী পৌরসভার বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দেশের সংবিধান নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। এ বিষয়ে মতভেদ দূর করতে আলেমদের মধ্যে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গাবতলী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিব হোসেন বাসস’কে বলেন,শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।