বাসস
  ২৭ মে ২০২৬, ১০:২১

লক্ষ্মীপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে গরু বাজার 

বুধবার সকালে পৌর গরু বাজারে গিয়ে দেখা যায়, হাটে বড় প্রচুর গরু রয়েছে। ছবি: বাসস

লক্ষ্মীপুর, ২৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : গত ২ দিন বৃষ্টির কারণে কিছুটা সমস্যা হলেও বুধবার সকাল থেকে আবহাওয়া ভালো থাকায় শেষ মুহূর্তে লক্ষ্মীপুরে জমে উঠেছে গরুর হাট। প্রতিটি হাট ভরে উঠেছে দেশি জাতীয় গরু-ছাগলে। জেলাজুড়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ৯০টি হাটে বেচা-কেনা শেষ পর্যায় রয়েছে। তবে ছোট-মাঝারি গরু বেচা-কেনা বেশ ভালো হলেও বড় গরু নিয়ে বিপাকে ব্যাপারীরা। হাটগুলোতে এবার মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। শেষ মুহূর্তে হাটের বেচাবিক্রির পাশাপাশি ভারতীয় গরুর দাপট না থাকায় পশু বিক্রি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে এবং খামারিরা তাদের কাঙ্খিত মূল্য পাবেন বলে আশা করেন অনেকেই।

এদিকে বুধবার সকালে পৌর গরু বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাটে বড় প্রচুর পরিমাণ গরু রয়েছে। মাঝারি বা ছোট আকারের গরু কম দেখা যায়। এ সময় কথা হয়, গরু ব্যাপারী আবুল বাশারের সাথে। তিনি বাসস’কে বলেন, খামারে দুই শতাধিক গরু ছিল। ইতোমধ্যে ১শ’ ৯০টি গরু বিক্রি হয়েছে। ১০টি বড় গরু রয়েছে। যে গুলোর দাম সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। এ গুলো বিক্রি করতে কষ্ট হচ্ছে। কারণ, আজকে শেষ হাট। দাম কিছুটা কম হলেও ছেড়ে দিব। অন্য গরুতে ভালো দাম পেয়েছি। 

একই কথা বলেছেন,গরু ব্যাপারী মুনছুর আলী। তিনি বলেছেন, ৬ মাস আগে যশোর,চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২০টি গরু কিনে এনে লালন-পালন করেছি। বাজারে ১৮টি গরু বিক্রি হয়েছে। দু’টি নিয়ে হাটে আছি। আশা করি বিক্রি করতে পারব। দামও ভালো পেয়েছি। বাজার ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে সন্তষ্ট প্রকাশ করেন তিনি। শুধু আবুল বাসার বা মুনছুর আলীই নয়, একই চিত্র পুরো হাটের। আবার অনেকের দাবী, ভারতীয় গরুর দাপট না থাকায় দাম ভালো পাওয়া গেছে। এখন আর হাটে তেমন ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু তেমন নাই। বড় গরুর ক্রেতা কম। এতে বিপাকে ব্যাপারীরা। তবে পছন্দের পশু কিনতে পেরে খুশি অনেকেই। আবার অনেকেই বাজারের ব্যবস্থাপনা নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. একেএম ফজলুল হক বাসস’কে বলেন, এবার কোরবানির জন্য লক্ষ্মীপুরে পশুর চাহিদা ৮৯ হাজার ২১৫টি থাকলেও ৯৫ হাজার ৪৭৭টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় ৬ হাজার ২৬২টি বেশি। প্রত্যেকটি হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়োজিত আছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা গরু অসুস্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। এখন পর্যন্ত বাজারের ব্যবস্থপনা খুবই ভালো। গরু ব্যাপারী বা খামারিরা গরুর দাম অনেক ভালো পেয়েছে। তারা অনেক লাভবান হয়েছে বলে দাবী করেন তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন-অর্থ). মো.হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বাসস’কে বলেন, জেলার ৫টি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলে ৯০টি হাট বসে। প্রত্যেকটি হাটে কয়েক স্তরের নিরাপত্তায় আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োজিত। হাটে জাল টাকা যেন ছড়াছড়ি করতে না পারে,সেদিকে পুলিশের বিশেষ নজর আছে। হাটে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা চাঁদাবাজি হয়নি। পুলিশ তৎপর রয়েছে।