বাসস
  ২১ মে ২০২৬, ২১:০৩

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত-আহতের পরিবারকে চেক হস্তান্তর

আজ গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি পরিবারের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। ছবি : বাসস

গাজীপুর, ২১ মে, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্বজনদের মাঝে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের তহবিল থেকে মোট এক কোটি ১৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ‘ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ক্ষতিগ্রস্ত ২৭টি পরিবারের হাতে এই অনুদানের চেক তুলে দেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া। 

চেক প্রদানকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আর্থিক সহায়তা কখনও জীবনের ক্ষতি বা পঙ্গুত্বের চিরস্থায়ী বেদনা মুছে দিতে পারে না। তবে এটি সংকটের এই কঠিন মুহূর্তে পরিবারগুলোকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে শক্তি যোগাবে।

তিনি বলেন, আপনাদের অনুরোধ করবো, এই টাকাটি কোনো অনুৎপাদনশীল কাজে নষ্ট করবেন না। এটিকে এমন কাজে লাগাবেন, যা থেকে অর্থ উপার্জনের একটি স্থায়ী পথ তৈরি হয়।
আবেগঘন এই অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালক, শ্রমিক ও পথচারী সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার এবং রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণের কঠোর আহ্বান জানান। 

তিনি মনে করিয়ে দেন, একটি দুর্ঘটনা শুধু একজনের জীবন নেয় না, পুরো পরিবারকে জীবন্ত কবর দেয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব সালমা খাতুন, বিআরটিএ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে অনুদানের চেক গ্রহণ করতে আসা ৩৫ বছর বয়সী সাবেক পিকআপ চালক মো. সেলিম বলেন, দুর্ঘটনা আমার পা কেড়ে নিয়ে আমার পরিবারটাকে রাস্তায় বসিয়ে দিয়েছিল। ধারদেনা আর মানুষের করুণায় দিন কাটছিল। আজ সরকারের এই সহায়তা পেয়ে মনে হচ্ছে আবার সন্তানদের মুখে দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে পারবো। আমি আবার বাঁচতে চাই।

সেলিমের ঠিক পাশেই পাথরের মতো স্তব্ধ হয়ে বসে ছিলেন খাদিজা আক্তার। গত বছর এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি হারিয়েছেন তার ২৫ বছর বয়সী তরুণ সন্তানকে। যে ছিল পুরো পরিবারের একমাত্র আশার আলো।

সরকারের এই আর্থিক অনুদানের চেকটি বুকে জড়িয়ে ধরে অশ্রুসজল চোখে খাদিজা আক্তার বলেন, যে চলে গেছে তাকে তো আর কোনোদিন কোনো কিছুর বিনিময়ে ফিরে পাবো না। সন্তানের শূন্যতা কি আর টাকা দিয়ে পূরণ হয়? তবে এই কঠিন বিপদের দিনে সরকার যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়ালো, তাতে অন্তত বাকি পরিবারটাকে নিয়ে মাথা গোঁজার একটা অবলম্বন খুঁজে পেলাম।