শিরোনাম

রাজবাড়ী, ১৪ মে, ২০২৬ (বাসস) : অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে একনেকে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। এই খবরে আনন্দে উদ্বেল হয়ে উঠেছে রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ।
রাজবাড়ী জেলা শহরে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আনন্দ মিছিল বের হয়। জেলা মহিলা দলের সোনিয়া আক্তার স্মৃতির নেতৃত্বে একটি বিশাল মিছিল বের হয়ে শহীদ মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি চত্বরে সমাবেশে পরিণত হয়। এছাড়া শ্রমিক দলের উদ্যোগে আব্দুল গফুরের নেতৃত্বে আলাদা সমাবেশ হয়েছে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম গতকাল বুধবার গোয়ালন্দে খাল খনন প্রকল্পের উদ্বোধনকালীন সময় বলেন, বাংলাদেশের এক তৃতীতাংশ মানুষ ফারাক্কা ব্যারাজ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত। দক্ষিণ বঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ কৃষি শিল্প বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন যাবত মারাত্মকভাবে জলবায়ুর পরিবেশগত ক্ষতির সম্মুখীন।
এই অঞ্চলের পশ্চাৎপদ জনজীবনে এর প্রভাব এবং প্রতিক্রিয়া দীর্ঘতর হয়ে মানুষের স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ না পেলে আমাদের স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। এই অঞ্চলের মানুষের মুক্তির মহাসোপান পদ্মা ব্যারাজ। যা আমাদের সময়ের দাবি। পদ্মা ব্যারাজ এবং ২য় পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন না হলে এলাকার মানুষের জীবনমান বদলাবে না। আজকে পদ্মা ব্যারাজ একনেকে পাস হওয়ায় জেলাবাসীর মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে।
মানুষের মধ্যে বর্তমান সরকারের প্রতি যেমন আস্থা বাড়ল তেমনি জনজীবনে আসবে আর্থিক স্বচ্ছলতা। এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় মানুষ প্রহর গুনছে।
সন্ধ্যায় শহীদ মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ সমাবেশ করেন। বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা নঈম আনসারী, অধ্যাপক মঞ্জুরুল আলম দুলাল, গাজী আহসান হাবীব, আব্দুল মজিদ প্রমুখ।
বুধবার বাদ আসর রাজবাড়ী সদর, পাংশা, বালিয়াকান্দি, গোয়ালন্দ ও কালুখালী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য হারুন অর রশিদ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম মিয়ার নেতৃত্বে এসব দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা মডেল মসজিদে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আব্দুস সালাম মিয়া। এ সময় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করেন।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষি, সেচ, নৌ-যোগাযোগ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।
পাশাপাশি পদ্মা নদীর নাব্যতা রক্ষা এবং এই অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মোনাজাতে প্রকল্পের দ্রুত ও সফল বাস্তবায়ন এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।