বাসস
  ১৪ মে ২০২৬, ১৩:৩২

বাগেরহাটে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে ফ্যাক্ট-চেকিং শীর্ষক সেমিনার 

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো.বাতেন।ছবি: বাসস

বাগেরহাট, ১৪ মে, ২০২৬ (বাসস) : খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিস পিআইডি আয়োজিত ‘তথ্যের সত্যতা নিশ্চিতকরণে সচেতনতা ও ফ্যাক্ট-চেকিং’ শীর্ষক এক সেমিনার আজ বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। 

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় আয়োজিত এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন খুলনা বিভাগীয় উপ প্রধান তথ্য অফিসার এ.এস.এম কবীর।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো.বাতেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক মুঈনুল ইসলাম, খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসার শারমিন আক্তার রুমা, সহকারী তথ্য অফিসার ফাতেমা তুজ জোহরা ও মো. রমজান আলী, সহকারী পরিচালক বিশ্বজিত শিকদার এবং বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাঈদ শুনু।

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসাইন লিটন, জাতীয় সংবাদ সংস্থার জেলা প্রতিনিধি আজাদ রুহুল আমিন, যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মো. ইয়ামিন আলী এবং সময় টেলিভিশনের আলী আকবর টুটুল। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা আঞ্চলিক সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মেহেদী হাসান।

প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এরমধ্যে অনেক তথ্য বিভ্রান্তিকর ও গুজব নির্ভর হওয়ায় সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। 

তিনি বলেন, ‘যেকোনো তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রচার বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণকে আরও সচেতন হতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ফ্যাক্ট-চেকিং এখন সময়ের দাবি। দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের উচিত তথ্যের উৎস যাচাই করা এবং অপতথ্য প্রতিরোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখা। তথ্য বিভ্রান্তি রোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে খুলনা বিভাগীয় উপ প্রধান তথ্য অফিসার এ.এস.এম কবীর বলেন, গুজব ও অপতথ্য বর্তমানে সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘তথ্যের সত্যতা যাচাই করা এখন শুধু সাংবাদিকদের দায়িত্ব নয় বরং প্রতিটি সচেতন নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।’

তিনি আরও বলেন, তথ্য অধিকার ও গণসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপপ্রচার মোকাবিলা করা সম্ভব। এ ধরনের সেমিনার মানুষের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরবে এবং তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

সভাপতির বক্তব্যে তিনি তথ্য যাচাইয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সেমিনারে বাগেরহাট জেলায় কর্মরত ৪০ জন বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ফ্যাক্ট-চেকিংয়ে ভুয়া খবর তথ্য সম্পর্কে এক ঘন্টা স্লাইড প্রদর্শন করা হয়।