বাসস
  ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৬

মাদারীপুরে হাউসদী বাজারে ৬টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি

হাউসদী বাজারে ৬টি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি ।ছবি: বাসস

মাদারীপুর, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস) : জেলার সদর উপজেলার হাউসদী বাজারে শুক্রবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। একদল মুখোশধারী ডাকাত বাজারের একাধিক দোকানের শাটার ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার, রুপা ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ৬টি স্বর্ণের দোকান ও একটি মুদি দোকানসহ মোট ৭টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গৌতম মালোর শ্রী শ্রী জগদীশ ঠাকুর জুয়েলার্স থেকে প্রায় ৫৫ ভরি রুপা লুট করা হয়েছে। বিদ্যুৎ মন্ডলের নিউ নারান জুয়েলার্স থেকে আনুমানিক সাড়ে ৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় ডাকাতরা। সেন্টু মালোর ভাগ্যশ্রী জুয়েলার্স থেকে ৩০ ভরি স্বর্ণ, প্রায় ৫শ’ ভরি রুপা এবং নগদ ১ লাখ টাকা লুট হয়েছে। পরিমল মালোর নিউ প্রিয়াঙ্কা জুয়েলার্স থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ, প্রায় ১ কেজি রুপা ও নগদ ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে যায় ডাকাতরা। স্বদেব মন্ডলের নিউ কনিকা জুয়েলার্স থেকে ১ ভরি স্বর্ণ, ৭০ ভরি রুপা ও ৪০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ভরত মালোর মা লক্ষ্মী গহনালয় থেকেও প্রায় ৭ ভরি রুপা নিয়ে যায় ডাকাত দল।

এছাড়াও জিয়া হাওলাদারের জিয়া স্টোর নামের মুদি দোকান থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকার সিগারেট ও নগদ ৫০ হাজার টাকা লুট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত নিউ কণিকা জুয়েলার্সের মালিক স্বদেব মন্ডল বলেন, ‘রাতে আমরা দোকান বন্ধ করে বাসায় যাই। সকালে হঠাৎ করে শুনি আমাদের দোকানে ডাকাতি হয়েছে। দোকানে থাকা সব মালপত্র ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে ডাকাত দল।’

অন্যদিকে নিউ প্রিয়াঙ্কা জুয়েলার্সের মালিক পরিমল মালো বলেন, ‘শুধু আমার দোকান নয়, আরও ৬টি স্বর্ণের দোকান ও একটি মুদির দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের টহল অব্যাহত থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। এখন আমরা বাজারের ব্যবসায়ীরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছি।’

ঘটনার পর শনিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মাদারীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ ডাকাতির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাসস’কে জানান, জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় পুরো হাউসদী বাজারে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা দ্রুত ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও বাজারে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।