বাসস
  ০৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৩

দিনাজপুরে স্ট্রবেরি চাষে কৃষকের সাফল্য

বিরল উপজেলার রাণী পুকুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের কৃষক ছামিউল ইসলাম বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন বিদেশি স্ট্রবেরি। ছবি: বাসস

-রুস্তম আলী মন্ডল-

দিনাজপুর, ৫ মার্চ, ২০২৬ (বাসস) : জেলার বিরল উপজেলার রাণী পুকুর ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের কৃষক ছামিউল ইসলাম (৩৬) দ্বিতীয় বারের মতো সফলতার সাথে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করেছেন বিদেশি স্ট্রবেরি। এরআগেও তিনি স্ট্রবেরি চাষ করে ব্যাপক সাফল্য লাভ করেছেন। 

ছামিউলের অর্জিত সাফল্য স্ট্রবেরি ফসলের ক্ষেত জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি টিম গতকাল বুধবার বিকেলে পরিদর্শন করেছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও শস্য) মো. মোস্তাফিজুর বুধবার রাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গতকাল বিকেলে দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম এই বিদেশি স্ট্রবেরি ফল চাষের ক্ষেত সরেজমিনে পরিদর্শন করে সফলতার বাস্তব চিত্র পেয়েছেন।

তিনি বলেছেন, এরমধ্যে বিদেশি স্ট্রবেরি ফল চাষে ব্যপক সাড়া ফেলেছেন উদ্যোক্তা ছামিউল ইসলাম। তার সফলতা দেখে স্ট্রবেরি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন ঐ এলাকার অনেক যুবক ও কৃষক। তিনি দাবি করেন এই বিদেশি ফল চাষে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছেন জেলা কৃষি বিভাগ।

সূত্র জানায়, ছামিউল ইসলাম কয়েক বছর ধরে উচ্চ ফলনশীল বিভিন্ন লাভজনক ফসল চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন। তার বাড়ির পাশে ৬০ শতাংশ জমি ১০ হাজার টাকায় লীজ নিয়ে এবার আমেরিকান ফেস্টিভ্যাল জাতের স্ট্রবেরির হাই-ভ্যালু ক্রপ সংগ্রহ করে কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে রোপণ করেন।

গত বছরের নভেম্বর মাসে জয়পুরহাট জেলা থেকে ২০ হাজার টাকার স্ট্রবেরির চারা কিনে তার জমিতে রোপণ করেছিলেন। চারা রোপণের ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফল বিক্রির সময় হয়। বর্তমানে তার বাগানে ৭ হাজারের মতো স্ট্রবেরির গাছ আছে। বিদেশি জাতের এই ফল চাষ করে নিজের এলাকায় বেশ আলোচিত হয়েছেন ছামিউল ইসলাম।

বর্তমানে ৩শ’ টাকা থেকে ৪শ’ টাকা কেজি দরে তার অর্জিত স্ট্রবেরি ফল ক্ষেত থেকে পাইকারি বিক্রি করছেন। গত বছর তার ক্ষেত থেকে প্রতি কেজি আরও বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছিল। একদিকে যেমন এই ফল চাষ লাভজনক। অন্য দিকে এই ফল বাগানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে অনেকের। এছাড়া ছামিউল এবার উন্নত ও হাইব্রিড জাতের টমেটো, মরিচ ও শশা চাষের পাশাপাশি স্ট্রবেরিসহ বিভিন্ন জাতের টিস্যু চারা বিক্রি করছেন।
বিরল উপজেলার গবিন্দপুর গ্রামের যুবক শরীফুল হক বাসস’কে বলেছেন, স্ট্রবেরি একটি বিদেশি ফল। আমাদের বিরলের মাটিতে এত সুন্দর ফল চাষ হবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। ছামিউল ৬০ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করে যে টাকা লাভবান করেছেন, তা অন্য ফসল চাষাবাদে হয়তো সম্ভব হতোনা।

তিনি বলেছেন, ভালভাবে বাজারজাত করতে পারলে আরও লাভ করা সম্ভব হবে। আমি পড়ালেখার পাশাপাশি আগামী বছর চারা সংগ্রহ করে এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে দুই বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করার ইচ্ছে পোষণ করেছি।

প্রতিবেশি কৃষ্ণরায় চন্দ্র বলেছেন, আমি এই গ্রামের একজন কৃষক। আমি ছামিউল ইসলামের স্ট্রবেরি ফলের ক্ষেত দেখতে গিয়েছিলাম। তার এই উদ্যোগ দেখে আমি আগামী বছর স্ট্রবেরি চাষ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ছামিউলের স্ট্রবেরি বাগান দেখতে আসা পাশ্ববর্তী খানসামা উপজেলার যুবক জুলহাস ইসলাম বলেছেন, এই ফলের নাম অনেক শুনেছি। কিন্তু সরাসরি দেখিনি। আজ দেখলাম ও খেলাম। স্ট্রবেরি ফলটি খেতে অনেক সুস্বাদু লাগল।

উদ্যোক্তা যুবকে ছামিউল ইসলাম ইসলাম বলেন, আমি আধুনিক প্দ্ধতিতে প্রথম স্ট্রবেরি চাষ শুরু করেছি। এই স্ট্রবেরি চাষ করতে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আমি আশা করছি, স্ট্রবেরি বাগানের ক্ষেত থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার স্ট্রবেরি বিক্রি করতে পারবো।

তিনি বলেছেন, আগামী বছরে টিস্যূ চারা নিজেই চাষ করব এবং বেশি জায়গা নিয়ে বড় আকারে চারা রোপণ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে ব্যক্ত করেন।

জেলার বিরল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আফজালুর রহমান বলেছেন, ফল ও ধান উৎপাদন এবং কৃষি ক্ষেত্রে অনেক অগ্রসর বিরল উপজেলা। সেখানে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে স্ট্রবেরি ফল। স্ট্রবেরি মূলত শীতকালের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি সুস্বাদু ফল।

তিনি বলেছেন, আমরা যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই বিদেশি স্ট্রবেরি ফল উৎপাদন করছি, সেটি একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। জেলায় এই সুযোগটি অন্যতম বলে কৃষি বিভাগ মনে করছেন।

এই অঞ্চলে নির্দিষ্ট একটি সময় শীতকাল থাকে। মাটির যে আদ্রতার প্রয়োজন, বেলে মাটি কিংবা বেলে দোয়াশ মাটি, সে মাটিও আমাদের রয়েছে। আমরা যদি সামান্য প্রযুক্তি জ্ঞান ব্যবহার করি, মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করি এবং তাপমাত্রা একেবারে সহ্য করতে না পারে, সে ক্ষেত্রে আমরা সেচ দিয়ে ঢেকে রেখে ভাল মানের স্ট্রবেবি চাষ করতে হতে পারি।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, আমি যুবক উদ্যোক্তা ছামিউল ইসলামের সফল অর্জিত স্ট্রবেরি ফলের চাষ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। বিরল উপজেলার মাঠে অর্জিত ফসলের ক্ষেত বা বাগানে রোগ-বালাইয়ের প্রকোপ খুবই কম হয়। তাপামাত্রা যদি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় তাহলে একটি সম্ভাবনাময় ফল হিসেবে স্ট্রবেরি চাষ করা যেতে পারে। সেটি সফলভাবে কার্যকর করতে এই বিদেশি স্ট্রবেরি ফল চাষে কৃষি বিভাগ উদ্যোগে নিয়েছে তিনি আশ্বস্ত করেন।