শিরোনাম

ঝিনাইদহ, ৬ জানুয়ারি ২০২৬ (বাসস) : দেশের উত্তর-উত্তর পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। এর প্রভাবে ঝিনাইদহেও জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। গত এক সপ্তাহ ধরে জেলায় শীতের তীব্রতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। জেলার কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষেরা পড়েছেন বিপাকে। কাজ না পেয়ে অনেকেই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
যশোর ও চুয়াডাঙ্গা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানায়, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি থেকে খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা, যশোর, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও মাগুরা জেলার তাপমাত্রা কমেছে। এর মধ্যে যশোর ও চুয়াডাঙ্গায় মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর, হরিণাকুন্ডু, কোটচাঁদপুর, কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলায় দিনের তাপমাত্রা কমেছে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় প্রতিদিনই ১৪ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামছে। জেলায় বাড়ছে তীব্র শীত। সেই সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে জেলাজুড়ে। ফলে শীতে তীব্র চরম আকার ধারণ করেছে।
গত এক সপ্তাহ যাবত জেলায় শীতের দাপট বৃদ্ধি পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। সেই সঙ্গে ভ্যান-রিক্সা চালক, কৃষি শ্রমিক, ইটভাটা শ্রমিকরাও চরম কষ্টে দিনযাপন করছেন। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেকেই কাজ করতে পারছেন না। একইভাবে, অস্থায়ী ও আগন্তুক শ্রমিকদের কাজের সুযোগ কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। ফলে অনেকেই কাজ না পেয়ে বাড়িতে বেকার বসে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।
ঝিনাইদহ শহরের পোস্ট অফিস মোড়ে কথা হয় কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর রাজাপুর গ্রামের সামাদ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, শহরে কাজের সন্ধানে আসি। পোস্ট অফিস মোড় থেকে অনেকেই এসে কাজ করানোর জন্য আমাদের নিয়ে যায়। মজুরি ঠিকঠাক হয়ে গেলে আমরা কাজে যাই। কিন্তু শীতের কারণে কেউ কাজ করানোর জন্য শ্রমিক নিতে আসছে না। যা দু-একজন আসছে, তারাও কম দামে শ্রমিক নিয়ে যাচ্ছে। কারণ কাজের চেয়ে শ্রমিক বেশি।
দিনমজুর দাউদ আলী বলেন, আমাদের শরীর যতক্ষণ ঠিক থাকে, ততক্ষণ আমাদের সংসার চলে, পেট চলে। শীত এতো বেড়েছে, দাঁড়িয়ে থাকা কষ্ট। তারপরও কাজের জন্য এসে অপেক্ষা করি। কিন্তু শীতের কারণে কাজ কমে গেছে।
শহরের পাগলা কানাই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বাসসকে বলেন, শহরের বাসিন্দারা কাজের জন্য অস্থায়ী শ্রমিকদের নিয়ে আসে। শীত বেড়েছে। শ্রমিক কম পাওয়া যাচ্ছে। আবার শীতের কারণে সারাদিন রোদের দেখা নেই। যে কারণে আমরা চাইলেও বাসা-বাড়ির কাজ করাতে পারছি না। কষ্ট তো আমাদেরও হচ্ছে, শ্রমিকদেরও হচ্ছে।
এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা শহর ছাড়াও উপজেলা শহর, বড় বড় বাজার ও গ্রামগুলোতে শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগত, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে ছিন্নমূল, দুস্থ অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।