বাসস
  ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪১
আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪৪

নাটোরে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই

ফাইল ছবি

 

\ ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন \

নাটোর, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬-এর প্রথম দিনেই আজ বৃহস্পতিবার জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেয়ে হচ্ছে। নতুন বছরে জেলার প্রায় এক হাজার ৭০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌনে চার লাখ শিক্ষার্থীর হাতে যাবে ৩৯ লাখ বই। ইতোমধ্যে জেলায় প্রাথমিকের শতভাগসহ প্রাপ্ত ২৭ লাখ বই প্রদান করা হচ্ছে।

নতুন শিক্ষাবর্ষে নাটোর জেলার চাহিদা অনুযায়ী প্রাথমিকের সকল পাঠ্যবই পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত প্রাথমিকের বই উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পর্যায়ে বিতরণ কার্যক্রম গত সপ্তাহেই শেষ হয়। আজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে এসব নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে অনানুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকের বিভিন্ন পর্যায়ে নাটোর জেলার এক হাজার ২২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৭৭ হাজার ৩৬০ জন। এসব শিক্ষার্থীর অনুকূলে মোট আট লাখ ৪১ হাজার ৫৯০ কপি বই বিদ্যালয় পর্যায়ে প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া জেলায় ৯৯২টি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচ বছর থেকে পাঁচ বছরের অধিক বয়সী ৩১ হাজার ৯৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্যে ৫৮ হাজার ৫০৪ সেট বই ও খাতা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে প্রদান করা হয়েছে। চার বছর থেকে চার বছরের অধিক বয়সী শিক্ষার্থীর জন্যে নির্বাচিত ৮৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফ্লাস কার্ড, সংখ্যা চার্ট, ফিলিপ চার্ট এবং ১০ সেট করে বই প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবদুল হান্নান বাসসকে জানান, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সকল বই এবং প্রাক-প্রাথমিকের দুইটি শ্রেণীর বই, খাতা ও সকল শিক্ষা সহায়ক উপকরণ উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে বিদ্যালয় পর্যায়ে আগেই প্রদান করা হয়। আজ বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের হাতে এসব বই হস্তান্তর করা হচ্ছে।

অন্যদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে জেলার ৪৭০টি স্কুল ও মাদ্রাসায় দুই লক্ষাধিক শিক্ষার্থীর হাতে আজ ১৯ লাখ ৭১ হাজার বই পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে আজ থেকে। এরমধ্যে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর এবতেদায়ী, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর দাখিল, ষষ্ট থেকে নবম শ্রেণীর ভোকেশনাল ছাড়াও ষষ্ট থেকে নবম শ্রেণীর সাধারণ বই রয়েছে। জেলার মোট পাঠ্য বইয়ের চাহিদা ৩১ লাখ তিন হাজার।

মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে জেলার জন্যে সাধারণ বিভাগে ষষ্ঠ শ্রেণীর সকল বই পাওয়া গেছে, তবে সপ্তম শ্রেণীর কোন বই পাওয়া যায়নি। অষ্টম ও নবম শ্রেণীর অধিকাংশ বই পাওয়া গেছে। ভোকেশনাল পর্যায়ে ষষ্ট থেকে নবম শ্রেণীর সকল বই পাওয়া গেছে। এবতেদায়ী পর্যায়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর দুই-তৃতীয়াংশ বই পাওয়া গেছে। 

তবে দাখিল পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কোন বই এখনো পাওয়া যায়নি, শুধুমাত্র নবম শ্রেণীর আংশিক বই পাওয়া গেছে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রোস্তম আলী হেলালী বাসসকে জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রাপ্ত প্রায় ৬৪ শতাংশ বই আজ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অবশিষ্ট বই প্রাপ্তির সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছনোর ব্যবস্থাা করা হবে।